আগামী মৌসুমে আসছে আগাম জাতের ‘ব্রি ধান-১১৮’: কৃষিমন্ত্রী

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদন হ্রাসের ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে সরকার জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি জানান, আগামী মৌসুমে হাওর অঞ্চলের জন্য ‘ব্রি ধান-১১৮’ নামে শীত সহনশীল একটি নতুন জাত অবমুক্ত করা হবে। এই জাতটি আগাম রোপণ ও কাটার সুযোগ তৈরি করবে, যা পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যা আসার আগেই কৃষকদের ফসল ঘরে তুলতে সাহায্য করবে।

শনিবার (১ আগস্ট) কুমিল্লা সার্কিট হাউসে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

কৃষিমন্ত্রী জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাব সামলাতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বিজ্ঞানীরা নতুন জাত উদ্ভাবনে কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী বছর একটি লবণাক্ততা সহনশীল ধানের জাতও অবমুক্ত করা হবে। 

কুমিল্লা স্থলবন্দর দিয়ে মাছ রপ্তানির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে শিগগিরই বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি কুমিল্লায় একটি মাছের ‘ল্যান্ডিং স্টেশন’ (অবতরণ কেন্দ্র) করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি জমি পাওয়া গেলে এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দেশে মিঠাপানির তাজা মাছের চাহিদা বেশি থাকায় আধুনিক বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণ অবকাঠামো তৈরিতে সরকার প্রাধান্য দিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির ভ্যাকসিনের আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশের বিদ্যমান ভ্যাকসিন উৎপাদন কেন্দ্র সম্প্রসারণে একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশেই ব্যাপক হারে ভ্যাকসিন উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এছাড়া চলমান খাল পুনঃখনন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করা হবে এবং আগামী বছর শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিনামূল্যে ধানবীজ, প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ এবং গবাদিপশুর জন্য প্রতিষেধক টিকা বিতরণ করা হয়েছে, যাতে বন্যা-পরবর্তী গবাদিপশুর রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

মতবিনিময় সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. খোরশেদ আলম, জেলা প্রশাসক রোজী আকতার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য দপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনসহ আঞ্চলিক দপ্তরগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত