বোমা নয়, মেট্রো স্টেশনে জর্দার কৌটা ও পান

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৫ এএম

রাজধানীর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পাওয়া যায় ‘বোমাসদৃশ’ দুটি পরিত্যক্ত বস্তু। এরপরই পরিত্যক্ত বস্তু দুটি ঘিরে জনমনে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। তবে স্টেশন দুটিতে পাওয়া বস্তুতে বিস্ফোরক দ্রব্য নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী।

জানা গেছে, গতকাল শনিবার প্রথমে মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনে বোমাসদৃশ্য বস্তু রয়েছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। স্টেশনের নিচে পাওয়া সন্দেহজনক ব্যাগটি এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করলে ভেতরে কৌটাসদৃশ একটি ইমেজ দেখা যায়।

এ সময় স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করে ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর ব্যবহার করে নিরাপদে বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে ব্যাগটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, এর ভেতরে জর্দার একটি কৌটা ও পান রয়েছে। কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা ক্ষতিকর বস্তু পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি পরিত্যক্ত বস্তা ঘিরেও বোমা আতঙ্ক তৈরি হয়। খবর পেয়ে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হ্যান্ড এন্ট্রির মাধ্যমে বস্তাটি পরীক্ষা করে। পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, বস্তার ভেতরে কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু নেই।

ডিএমপি জানায়, মিরপুর-১০ স্টেশনের নিচে পাওয়া ব্যাগে ছিল জর্দার কৌটা ও পান। আর ফার্মগেট এলাকায় পাওয়া বস্তায়ও কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু পাওয়া যায়নি।

ডিএমপি জানিয়েছে, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা সতর্ক। একই সঙ্গে গুজব বা যাচাইবিহীন তথ্য ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি না করে সন্দেহজনক কোনো বস্তু দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানাতেও ডিএমপির পক্ষ থেকে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে সন্দেহজনক বস্তু পাওয়ার পর স্টেশন দুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে স্টেশন দুটি খুলে দেওয়া হয়। মেট্রো চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

এর আগে গত ২৪ জুলাই রাতে রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ‘পাইপ বোমা’ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মোহাম্মদ শামসুল হক বলেছিলেন, ছাতার সঙ্গে বোমাটি এমনভাবে লাগানো ছিল যে, ছাতাটি ফোটালেই বিস্ফোরণ হতো। পরে ৩১ জুলাই আশুলিয়ায় একটি দোকানের সামনে পড়ে থাকা ব্যাগ থেকে ‘পেশার কুকার বোমা’ উদ্ধার হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত