শীর্ষ সন্ত্রাসী টেম্পুর কারামুক্তি ঠেকাল পুলিশ

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৮ এএম

চট্টগ্রামের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী ইসমাইল হোসেন টেম্পুর  (৩৫) জামিনে মুক্তি ঠেকাল পুলিশ। নতুন মামলায় তাকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ না দেখাতে হাইকোর্টের আদেশ আপিল বিভাগ স্থগিত করায় দুর্ধর্ষ এই সন্ত্রাসীকে কারাগারেই আটকে রাখতে সক্ষম হয় পুলিশ। ২০২৫ সালের ১৩ জুন নগরের কোতোয়ালি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলায় (নম্বর-১১) তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার এই সন্ত্রাসীকে মুক্তি দিতে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। তার বিরুদ্ধে থাকা পিডব্লিউডি (প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন ওয়ারেন্ট) প্রত্যাহার না হওয়ায় কারাগার থেকে আর মুক্তি পাননি টেম্পু। চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট-৪ আদালত টেম্পুর কারামুক্তির নির্দেশ দিয়েছিল।

গত বুধবার নির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত কোনো আসামিকে অন্য মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানো যাবে না হাইকোর্টের দেওয়া এমন আদেশ স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে এ বিষয়ে জারি করা হাইকোর্টের রুল চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেয়। এর আগে গত মঙ্গলবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশিষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্দিষ্ট মামলা ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না এবং গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে অন্য মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানো যাবে না মর্মে অন্তর্বর্তী আদেশ দেয়। একই সঙ্গে এ বিষয়ে রুল জারি করে আদালত।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসী টেম্পুর বিরুদ্ধে নগরের চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ বোস্তামি থানায় খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ, অস্ত্র ও মাদক আইনে অন্তত ৩০টি মামলা বিচারাধীন। এর আগে  টেম্পু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অন্তত ১৩ বার গ্রেপ্তার হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদকসহ নানা অপরাধে জড়িত। চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায়, সশস্ত্র মহড়া এবং আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১৪ সালে চান্দগাঁও থানা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় টেম্পু পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। এরপর বিভিন্ন সময়ে তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়েন তিনি। সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল বলেন, ‘ইসমাইল হোসেন টেম্পু দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। সে ইতিপূর্বে পুলিশের হাতে ১৩ বার  গ্রেপ্তার হয়েছে। প্রতিবারই আইনের ফাঁকে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়েছে।’

পুলিশের ভাষ্য, বর্তমানে চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। এমন পরিস্থিতিতে তার মুক্তি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। জানা গেছে, ছিলেন টেম্পুর সহকারী। তারপর চালক। এরপর মাস্তান। পরে চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে হয়ে ওঠেন ভয়ংকর অপরাধী। ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ, অপহরণ এমন কোনো অপরাধ নেই যা করেননি শীর্ষ সন্ত্রাসী টেম্পু। বাবার সঙ্গে চালাতেন টেম্পু। এজন্য পরিচিতি পায় ‘টেম্পু’ হিসেবে। তার আছে সন্ত্রাসী দল। তার বিরুদ্ধে থাকা বেশিরভাগ মামলাই ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের। খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলাও রয়েছে। পুলিশের হাতে যতবার ধরা পড়েছেন ততবারই তার হেফাজত থেকে উদ্ধার হয়েছে কাটা রাইফেল, পিস্তল, বন্দুকসহ নানা রকম অবৈধ অস্ত্রশস্ত্র।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত