ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী

সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৪ এএম

সরকার ও ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল শনিবার প্র্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু) গণমাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) আয়োজনে সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা আছে, তবে আমরা একসঙ্গে কাজ করলে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান সমস্যাগুলো সরকার যেমন উপলব্ধি করছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও তা অনুধাবন করছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।’ সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা সবাই স্বীকার করছি যে, অনেক সমস্যা আছে। সরকার নিশ্চয়ই এতটুকু প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, আমরা চেষ্টা করছি। সরকারের বয়স এখনো ছয় মাস হয়নি। এর মধ্যেই আমরা কয়েকবার বসেছি।’ আগের বৈঠকের আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, সেসবের অনেকগুলোরই সমাধান হয়েছে। আজকের বৈঠকেও নতুন করে বিভিন্ন সমস্যার কথা উঠে এসেছে এবং সেগুলো নিয়েও কাজ করা হবে।’ প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে সরকার।

আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান বের হয়ে আসে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের সংলাপ অব্যাহত থাকলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

বৈঠকে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন শিল্পায়নের পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণ, নীতিগত সহায়তা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তারা চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সভায় জানানো হয়, আগের বৈঠকে আলোচিত ২৮টি সমস্যা পর্যালোচনা করে ২১টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি সাতটি বিষয় এখনো প্রক্রিয়াধীন।

এ সময় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার রূপরেখাও তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা। বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৪ নম্বর গেইটে এক অনানুষ্ঠানিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, ‘দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে সৃষ্ট বাণিজ্য, শিল্প ও বিনিয়োগ খাতের জটিলতা দূর করতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তথা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি সমাধান, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও কর ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং বিসিক, বেজা ও বেপজার আওতাধীন শিল্পাঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ আরও সহজ করার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত