গোখরার কামড়ে ওঝার মৃত্যু, ৭ ঘণ্টা চলল ঝাড়ফুঁক

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩০ এএম

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে প্রায় ৭ ঘন্টা ঝাড়ফুঁকের পর আজাদুল ইসলাম ওরফে ঘুটু (৩০) নামের এক ওঝার মৃত্যু হয়েছে। এরআগে বিকেল ৫ টার দিকে তাকে সাপ কামড় দেয়। রাত ১১ টার দিকে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।

গতকাল সোমবার (৩ আগষ্ট) উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের তরফকামাল শিয়ালগাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আজাদুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়না জানায়, উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের আসাদ মোড়ে প্রতি মঙ্গলবার পাতা খেলা অনুষ্ঠিত হয়। সেই খেলা উপলক্ষে সোমবার বিকেলে আজাদুল ইসলাম কোচাশহর এলাকা থেকে একটি বিষধর সাপ ধরে আনেন। পরে নিজ বাড়িতেই সেই বিষধর সাপটিকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন। এসময় হঠাৎ সাপটি তাকে কামড় দেয়। পরে তিনি অসুস্থ হলে  স্থানীয়রা তাকে বিষ নামানোর জন্য উপজেলার রাজা বিরাটের পার্শ্ববর্তী শিবসমুদ্র এলাকায় অন্য একজন ওঝার কাছে নিয়ে যান। সেখানে প্রায় ৭ ঘন্টা ঝাড়ফুঁক করে বিষ নামানোর চেষ্টা করা হয়।

এরপর বিষয়টি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে পেরে ওই রোগিকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য স্বজনদের উদ্বুদ্ধ করেন। পরে তারা রাত ১১টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সুমন প্রামানিক। তিনি  জানান, রোগীকে হাসপাতালে আনার পর  পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। কিন্তু হাসপাতালে আসার প্রায় দুই ঘণ্টা আগেই ওই রোগির মৃত্যু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, আজাদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় পাতা খেলায় সাপ প্রদর্শন করতেন। সম্প্রতি তিনি কলাগাছে সাপ পেঁচিয়ে খেলা দেখাতেন। মঙ্গলবার এলাকায় পাতা খেলা অনুষ্ঠানে বড় আকারের একটি সাপ প্রদর্শনের পরিকল্পনা ছিল তার। সেই উদ্দেশেই নতুন ধরা সাপটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদার রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, সচেতনতার অভাবে আমাদের দেশে অনেকে সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের স্বজনেরা হাসপাতালে না এনে প্রথমে ওঝার কাছে নেন। অনেক সময় বিষধর সাপ না হলে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই ওই রোগীরা সুস্থ হয়ে যান। ফলে স্বজনেরা ভাবেন, ওঝার ঝাড়ফুঁকে ভালো হয়ে গেছে। বিপদটা তখনই হয়, যখন বিষধর সাপ কামড়ায়।সঠিক সময়ে হাসপাতালে নেন না। তাই রোগীকে বাঁচাতে হলে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতাল আনতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত