বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা আসন দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বর্তমান বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এই আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন। সভাপতি হওয়ার পর তিনি বিধায়ক পদ ছেড়ে দিলে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে জয় পেয়েছেন জনসুরাজ পার্টির নেতা ও সাবেক নির্বাচনী কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর।
এদিকে মধ্যপ্রদেশের দাঁতিয়া বিধানসভা উপনির্বাচনে জয় পেয়েছে কংগ্রেস। গুজরাটের মঞ্জিলপুর আসন ধরে রেখেছে বিজেপি।
বাঁকিপুরে প্রশান্ত কিশোর ১৯ হাজার ৩২৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। উপনির্বাচনে ভোট পড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। এই আসন ধরে রাখতে নীতিন নবীন নিজে সক্রিয়ভাবে প্রচার চালান। তাঁর সঙ্গে রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়কও প্রচারে অংশ নেন। এরপরও পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে বিজেপিকে।
জয়ের পর প্রশান্ত কিশোর বলেন, ভোটাররা মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই ফলাফলে ‘জেন জি’ আন্দোলনেরও প্রভাব থাকতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির এক প্রবীণ নেতা বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘জেন জি’ আন্দোলনের কারণে তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিজেপির সমর্থন কমেছে। পাশাপাশি উচ্চবর্ণের ভোটারদের একাংশের অসন্তোষও বেড়েছে। এসবের সুবিধা পেয়েছেন প্রশান্ত কিশোর।
প্রবীণ সাংবাদিক শরদ গুপ্তার মতে, শুধু বাঁকিপুর নয়, তিনটি উপনির্বাচনেই ‘জেন জি’ আন্দোলনের প্রভাব দেখা গেছে। তাঁর দাবি, দাঁতিয়ায় বিজেপির ভোট ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং মঞ্জিলপুরে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। গুজরাটে আসন ধরে রাখলেও বিজেপির ভোটের হার কমেছে, যার পেছনেও আন্দোলনের প্রভাব থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
‘জেন জি’ আন্দোলন শেষ হওয়ার দিন এক অটোরিকশাচালক বলেছিলেন, আন্দোলনের প্রভাব বাঁকিপুরে স্পষ্ট হবে এবং সেখানে প্রশান্ত কিশোর জয়ী হতে পারেন।
