ফিরে দেখা জুলাই

‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আশানুরূপ পরিবর্তন দেখিনি’

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম

চব্বিশের জুলাইয়ের আন্দোলনকে বলা হয় ছাত্র-জনতার আন্দোলন। আমি ছাত্র না, আমি সেই জনগণ। এটাকে তরুণদের আন্দোলনও বলা হয়। আমি তরুণও, তবে শিক্ষার্থী না। আমি পেশায় ব্যবসায়ী। স্যানিটারির ব্যবসা করি। 

আমি আন্দোলনে যুক্ত হই চব্বিশের ২২ জুলাই। স্বৈরাচারী শাসন থেকে দেশ জাতিকে মুক্ত করার জন্যই আমার আন্দোলনে যুক্ত হওয়া। যারা আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে তারা সবাই কমবেশি আহত হয়েছে। আমিও ছররা গুলির শিকার হয়েছি, শারীরিকভাবে আহত হয়েছি। 

আন্দোলনের প্রতিটি দিনেই আমরা মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি। পার্থক্য এই যে, মৃত্যু হয়তো আমাদের পাশেরজনকে ছুঁয়ে গেছে। না হলে এই কথা বলার জন্য আমরা থাকতাম না। আমার চোখের সামনেই বাংলামোটর এলাকায় একটি ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। পরে ফার্মগেটে আমার ডানপাশে আরেকটি ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে কিছুক্ষণ পরে আমার কোলেই মারা যায়। এই মৃত্যুগুলো তো কেউ চাইলেই ভুলে যেতে পারবে না।

দেশের স্বার্থে আমি আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার আমাদের কোনো খোঁজ নেয়নি, আমি সরকার থেকে কোনো প্রকার সুযোগ-সুবিধা ও সহযোগিতা পাইনি। 
আমার স্বপ্ন ছিল বিচার ও আইন ব্যবস্থার স্বাধীনতা, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন, সুন্দর, নিরপেক্ষ, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের। 

জুলাইযোদ্ধা হিসেবে আমি চাই, একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ও একটি সুস্থ সমাজ, যেখানে নিরপেক্ষতা ও সমতা থাকবে, থাকবে না কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি আর কোনো মায়ের সন্তানের রক্ত যেন রাজপথে না ঝরে, থাকবে ভালোকে ভালো ও খারাপকে খারাপ বলার অধিকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত