বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই কমিটি গঠন করা হয়।

এর আগে গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক এক প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ বাধে, যাতে উভয় পক্ষের অন্তত ‘পাঁচজন গুরুতর আহতসহ’ বিশজন আহত হন।

এ তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানাকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, সহকারী প্রক্টর আব্দুল্লাহ আল মাহবুব, বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট আমির শরিফ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিউল ইসলাম জীবন ও রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হারুন-আল রশিদ। কমিটিকে খুব দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

এঘটনার বিবাদ শুরু হয় শিবির কর্তৃক আয়োজিত প্রোগ্রামের একটি ফেস্টুনকে কেন্দ্র করে। ওই ফেস্টুনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা, মতিউর রহমান নিজামী, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মীর কাশেম আলী ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি ছিল। ছাত্রশিবির এই ছবিগুলোকে ‘বিচারিক হত্যার শিকার’ হিসেবে প্রদর্শন করছিল।

ছাত্রদল রাত সাড়ে ৯টায় ওই ফেস্টুন সরানোর দাবিতে ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়।

এ নিয়ে ছাত্রদল সভাপতি মো. ইয়ামিন জানান, জামায়াতের যুদ্ধাপরাধীদের ছবি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবির পাশে প্রদর্শন করায় তারা আপত্তি জানান।

অভিযোগ ওঠে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চেয়ার ও ইটপাটকেল ছোড়া হলে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাল্টা ধাওয়া দেয় শিবিরের নেতাকর্মীরা। প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় চলে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। সংঘর্ষ ক্যাম্পাস থেকে সংলগ্ন রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ৩ ঘণ্টার বেশি সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং শতশত যানবাহন আটকা পড়ে।

ছাত্রদলের অভিযোগ, শিবিরকর্মীরা তাদের ওপর চেয়ার ছুড়ে মারে এবং ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে কারমাইকেল কলেজের শিবিরকর্মীদের এনে আক্রমণ চালায়। অন্যদিকে শিবিরের দাবি, তারা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি ছেড়ে দিতে চাইলেও ছাত্রদল হঠাৎ আক্রমণ চালায়।

এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি ১৪৪ ধারাও জারি করা হয়। তবে ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে ক্যাম্পাস দখলে নেয় ছাত্রদল ও জেলা-মহানগর ছাত্রদল যুবদল।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী সংঘর্ষের তীব্র নিন্দা জানিয়ে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত