বর্ষায় ডালপা বিলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা 

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৭ পিএম

কুমিল্লা সিলেট মহাসড়কের মকিমপুর স্টেশন থেকে মকিমপুর গ্রামের পাকা সড়ক দিয়ে পশ্চিম দিকে কিছুটা এগিয়ে গেলেই চোখে পড়বে বিশাল জলরাশির ডালপা বিল। বিলের বুক চিরে পাকা সরু পথ চলে গেছে এঁকেবেঁকে। এই পথে এসে ধাক্কা দেয় দুই পাশের পানির ঢেউ। রাস্তার দুই পাশে প্রায় ১০০০ একর জমি নিয়ে বিস্তৃত এই ডালপা বিল।

বিশাল আয়তনের এই বিলটি হাওরের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র এই তিন মাস বিলে কানায় কানায় পূর্ণ পানি থাকে। মিঠাপানি আর সবুজে সমৃদ্ধ এ বিলটি দেখতে ছবির মতোই সুন্দর। এলোমেলো বাতাসে বিলের তীরে ঢেউয়ের পর ঢেউ আছড়ে পড়ে। পানিতে মেঘ ও পাখিদের উড়ে যাওয়ার প্রতিচ্ছবি আর সন্ধ্যার গোধূলির আলোর সঙ্গে মিলে মিশে একাকার হয়ে ওঠে। বিকেল হলেই দূর দূরান্ত থেকে এই বিলের সৌন্দর্য দেখতে আসেন শত শত দর্শনার্থী।

বিলের সিংহভাগ মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন আন্দিকোট ইউনিয়নে। মুরাদনগরের মানুষ বিলটিকে ডালপা বিল নামে চেনে। আর বাকি অংশটা ব্রাহ্মণপাড়ার মুকিমপুরে। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মানুষজন মকিমপুর বিল হিসেবে চেনে। 

ছুটির দিন বিকেলে ঘুরতে গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা ও নবীনগর উপজেলা থেকে শত শত দর্শনার্থী পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন। কেউ নৌকায় ঘুরছেন, কেউ শাপলা-শালুক তুলছেন, আবার কেউ প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত। কলেজ ও স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর পুরো এলাকা।

মুরাদনগর উপজেলা সদর থেকে পরিবার নিয়ে আসা আল আমিন নামের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ব্যবসার কাজ নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতে হয়। তবে সময় পেলে স্ত্রী–সন্তানদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া হয়। ফেসবুকে ডালপা বিলের সৌন্দর্য দেখে ঘুরতে এসেছি। বিলের সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করেছে। তবে মহিলাদের জন্য ভালো ওয়াসরুমের ব্যবস্থা করার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

কলেজ শিক্ষার্থী সাফায়াত তার বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। তিনি বলেন, ডালপা বিল সত্যিই মনোমুগ্ধকর। তবে এখানে খাবারের ভালো আয়োজন নেই। পর্যাপ্ত নৌকাও নেই। এসবের আয়োজন থাকলে খুব ভালো লাগতো।

স্থানীয়রা জানান, রাস্তাটি সরু হওয়ায় যান ও লোকজনের চলাচলের সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া এখানে বিদ্যুতের কোন ব্যবস্থা না থাকায় ভালো কোন খাবারের দোকান হচ্ছে না। বিদ্যুৎ না থাকায়  স্থানটিতে দ্রুত অন্ধকার নেমে আসে তাই দর্শনার্থীরা নিরাপত্তা জনিত কারণে সন্ধ্যার আগেই স্থান ত্যাগ করে চলে যাচ্ছেন। বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকলে এখানে ভালো মানের খাবারের দোকান তৈরি হতো এবং দর্শনার্থীরা সন্ধ্যা রাতের সৌন্দর্যটুকু উপভোগ করতে পারতেন। তারা বিলের রাস্তাটি প্রশস্ত এবং দ্রুত বিদ্যুতের ব্যবস্থা করার জন্য মুরাদনগরের সংসদ সদস্য ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ডালপা বিল প্রজেক্টের সেক্রেটারি স্বপন সরদার জানান, বছরের এই সময়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ এই বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। দর্শনার্থীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হলে বিলকে ঘিরে গড়ে উঠতে পারে একটি ভালো পর্যটনকেন্দ্র।

দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে আমারা আমাদের সমিতি ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে যথেষ্ট চেষ্টা করে যাচ্ছি যেন দর্শনার্থীরা কোন ধরনের হয়রানির শিকার না হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত