হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মোহনপুর মৌজায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জমি অবৈধভাবে দখল করে একটি পরিবারের একমাত্র চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সওজ, হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী মো. শাহজাহান মিয়া। যদিও সওজ কর্তৃপক্ষ অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা সরাতে নোটিশ জারি করলেও এখনো কোনো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়নি।
আবেদন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর সুরমা (গউছনগর) গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহজাহান মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মোহনপুর মৌজায় নিজ মালিকানাধীন জমিতে বসতঘর ও দোকানঘর নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। তার দাবি, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে যাতায়াতের জন্য সওজ বিভাগের ২ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ৫৮২ নম্বর দাগের প্রায় ১৫ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
শাহজাহান মিয়ার অভিযোগ, সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তি ওই সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় পরিবারের একমাত্র চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, মোহনপুর মৌজার বিএস খতিয়ান নম্বর ২৩৪-এর ৪৫৭ নম্বর দাগে ১০ শতাংশ এবং বিএস খতিয়ান নম্বর ৬৮-এর ৫১৫ নম্বর দাগে প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ জমির মালিক তিনি। এসব জমিতে যাতায়াতের জন্য অন্য কোনো বিকল্প রাস্তা নেই।
মানবিক দিক বিবেচনায় সওজ বিভাগের জমিটি চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি অথবা সরকারি নীতিমালার আওতায় বন্দোবস্ত দেওয়ার আবেদন জানিয়ে গত ২২ জুন নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করেন তিনি।
আবেদনের পর হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন গত ১৩ জুলাই অভিযুক্তদের তিন দিনের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করেন। তবে নোটিশের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তরা দখল বজায় রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। তাদের দাবি, দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে চলাচলের পথ পুনরুদ্ধার করা হোক।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য, তারা কোনো ব্যক্তিগত জমি দখল করেননি। তাদের দাবি, তারা সড়ক ও জনপথ বিভাগের সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। মাধবপুর উপজেলায় সওজের প্রায় ১০০ কোটি টাকার জমি বিভিন্ন ব্যক্তি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলে সবার বিরুদ্ধেই সমানভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন বলেন, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য ব্যয় হয়। সামনে ছয় লেন প্রকল্পের জন্য সরকারি বাজেট আসবে। তখন সমন্বিতভাবে সকল অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
