রাজধানীর দক্ষিণখানে দন্ত চিকিৎসক সারাহ রোকসানা পিনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার স্বামী সোহেল রানাকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৫ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
এর আগে, গত ৩ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে সোহেল রানার জামিন আবেদন নাকচ করে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্তে পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে পাওয়া জুতার ছাপের সূত্র ধরে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত পিনুর বোন সারাহ সুলতানা পলি গত ৩১ জুলাই দক্ষিণখান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন তদন্ত কর্মকর্তা সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানির জন্য আদালত ৩ আগস্ট দিন ধার্য করেছিলেন।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকার জামতলা গলির একটি বাসা থেকে চিকিৎসক সারাহ রোকসানা পিনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমদিকে পুলিশ ধারণা করেছিল, দুর্বৃত্তরা বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে হত্যা ও চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় জানালার ভেতরের বারান্দায় একটি জুতার ছাপ পান সিআইডির সদস্যরা। পরে বাসায় পাওয়া একজোড়া জুতার সঙ্গে ওই ছাপের মিল পাওয়া যায়, যা সোহেল রানার বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিমান্ড শুনানির সময় আদালত সোহেল রানার কাছে জানতে চান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো কি না। জবাবে তিনি বলেন, পারিবারিক বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হলেও ঘটনার কয়েকদিন আগে কোনো ঝগড়া হয়নি। আদালতের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সোহেল রানা। তিনি দাবি করেন, এটি সম্পূর্ণ চুরির ঘটনা। তার ভাষ্য, চোরেরা বাসায় ঢুকে স্বর্ণালংকার লুট করে এবং স্ত্রী ঘুম থেকে জেগে যাওয়ায় তাকে হত্যা করে। ঘটনার সময় তিনি প্রতিষ্ঠানের একটি প্রকল্প এলাকায় ছিলেন এবং মেয়ের শিক্ষকের ফোন পেয়ে বিষয়টি জানতে পারেন।
গ্রেপ্তারের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'পুলিশ অন্য কোনো আসামি ধরতে পারেনি। আমার স্ত্রীর বোনেরা মনে করছে, আমাদের (স্বামী-স্ত্রী) মাঝে মনোমালিন্য ছিল। আমি আসলেই কিছু জানি না। আমাকে ধরে নিয়ে আসা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মনোমালিন্য তো সারাজীবনই থাকে কম বেশি।'
ঘটনাস্থলে পাওয়া জুতার ছাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার বাসার গ্রিল কেটে যদি বাইরের লোক ঢোকে, সেখানে কি আমার পায়ের ছাপ পাওয়ার কথা? এটা কোন যুক্তিতে আসলে আমি বুঝি না।
স্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনও তিনি নাকচ করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৩০ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সোহেল রানা মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে অফিসে যান। বাসায় একা ছিলেন পিনু। বিকেলে কাউকে নিতে না আসায় তাদের মেয়ে নিজেই বাসায় ফিরে আসে। সে দেখতে পায়, ঘরের দরজা চাপানো অবস্থায় খোলা এবং তার মা খাটে চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন। মুখের ওপর একটি বালিশ ছিল। বালিশ সরিয়ে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে শিশুটি বুঝতে পারে তার মায়ের শ্বাস-প্রশ্বাস নেই। পরে সে আবার স্কুলে ফিরে গিয়ে অধ্যক্ষের মোবাইল ফোন থেকে বাবাকে বিষয়টি জানায়।
মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
