চাঁদে আছড়ে পড়ল ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেট

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫১ এএম

মহাকাশে দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ভেসে থাকার পর অবশেষে অপরূপ চন্দ্রপৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তৈরি ‘ফ্যালকন-৯’ রকেট। অত্যন্ত উচ্চ গতিতে ঘটে যাওয়া এই সংঘর্ষের পর রকেটটির অস্তিত্ব চাঁদের বুকেই তলিয়ে গেছে।

বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রকেটটি ঘণ্টায় প্রায় পাঁচ হাজার চারশত মাইল বেগে চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত হানে, যা শব্দের গতির প্রায় সাত গুণ। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে ঘটে যাওয়া এই প্রচণ্ড সংঘর্ষে প্রায় তিন টন টিএনটির সমপরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে চাঁদের বুকে নতুন একটি বিশাল গর্ত বা ক্রেটার তৈরি হওয়ার পাশাপাশি চারপাশে বিপুল পরিমাণ ধুলা ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়েছে।

টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের গবেষণার তথ্যমতে, সংঘর্ষের তীব্রতায় চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ লাখ কেজি ধ্বংসাবশেষ ও ধূলিকণা মহাশূন্যে উঠে যায় এবং এই ধ্বংসাবশেষের মেঘ প্রায় ১১৪ মাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হতে পারে। পৃথিবী থেকে শক্তিশালী টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই ঘটনাটি নজরদারিতে রাখার চেষ্টা করা হলেও সংঘর্ষের মুহূর্তে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো দৃশ্যমান আলো বা চিহ্ন শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনার সুনির্দিষ্ট চিত্র নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষকদের আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

নাসা জানিয়েছে, রকেটের গতিপথের এই পরিবর্তন ও আছড়ে পড়ার ঘটনা থেকে পৃথিবীর জন্য কোনো প্রকার ঝুঁকি বা বিপদের আশঙ্কা নেই। বর্তমানে নাসার ‘লুনার রিকনেসাঁ অরবিটার’ দিয়ে ওই নির্দিষ্ট এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অরবিটারটি সংঘর্ষস্থলের স্পষ্ট ছবি পাঠালে এই ঘটনার প্রকৃত বৈজ্ঞানিক প্রভাব এবং চাঁদের বুকে তৈরি হওয়া গর্তের সঠিক মাত্রা জানা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে চাঁদে দুটি লুনার ল্যান্ডার পাঠানোর উদ্দেশ্যে এই ফ্যালকন-৯ রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী রকেটের এই অংশটির চাঁদে আছড়ে পড়ার কথা ছিল না। তবে নাসা ও স্পেসএক্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবল সৌর কার্যকলাপ এবং মহাকাশের মহাকর্ষীয় শক্তির সম্মিলিত প্রভাবে রকেটের ওপরের অংশটির গতিপথ অনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিবর্তিত হয়ে চাঁদের দিকে চলে যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত