আগামী ২০ আগস্ট নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে তফসিল চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। দেশের বাইরে থাকায় নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বৈঠকে অংশ নিতে পারেননি।
পরে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনী কর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
আইন অনুযায়ী, একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক ও আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। এছাড়া মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর সম্মতিসূচক স্বাক্ষরও বাধ্যতামূলক।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনের সপ্তম ধারা অনুযায়ী, বৈধ প্রার্থী একজন হলে নির্বাচন কমিশন তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবে। তবে একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে তাদের মধ্যে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাইয়ের কার্যক্রম প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে সম্পন্ন হবে। আর ভোটের প্রয়োজন হলে তা জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।
সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোটগ্রহণ হয়েছিল। এরপর প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করায় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে।
সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সে অনুযায়ী আগামী ২২ অক্টোবরের আগেই নির্বাচন শেষ করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
