বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ও কালজয়ী সৃষ্টি হুমায়ূন আহমেদের ‘মিসির আলী সিরিজ’ নিয়ে সম্প্রতি এক সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করেছেন ব্র্যাক ব্যাংক রিডিং ক্যাফের সদস্যরা।
সাহিত্যচক্রের এই বিশেষ সেশনে মিসির আলী চরিত্রের অসাধারণ মনস্তাত্ত্বিক দিক ও সাহিত্যিক মাহাত্ম্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে মিসির আলী এমন একজন মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক, যিনি অলৌকিক মনে হওয়া যেকোনো রহস্যকে যুক্তির কষ্টিপাথরে সমাধান করেন।
হুমায়ূন আহমেদ যেভাবে নিখুঁতভাবে যুক্তি আর রহস্যের ভেদাভেদকে মিলিয়ে পাঠকদের শেষ পাতা পর্যন্ত ধরে রেখেছেন, তা নিয়ে নিয়ে নিজেদের মুগ্ধতা প্রকাশ করেন রিডিং ক্যাফের সদস্যরা। আলোচনায় মিসির আলী সিরিজের মনস্তাত্ত্বিক রহস্য, সাসপেন্স ও মানবিক দিকের চমৎকার মিশ্রণ নিয়ে আলোচনা হয়। সদস্যরা সিরিজের অবিস্মরণীয় চরিত্র, অপ্রত্যাশিত টুইস্ট এবং ভাবজাগানিয়া বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন।
তারা উল্লেখ করেন যে, এই গল্পগুলো কেবল সাধারণ গোয়েন্দা কাহিনীর গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের মনের জটিল মনস্তত্ত্বকে এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছে, যা প্রতিটি রহস্যকে আরও জীবন্ত করে তোলে। আলোচনায় উঠে আসে মধ্যবিত্ত জীবনের পটভূমি, সূক্ষ্ম রসবোধ, আবেগের গভীরতা এবং বাস্তবতা বজায় রেখে সাসপেন্স ধরে রাখার জাদুকরী ক্ষমতার কথা, যার কারণে এই সিরিজটি আজও সব বয়সী পাঠকের কাছে সমান জনপ্রিয়।
গল্পের শেষদিকের চমৎকার রহস্যময়তা ও টানটান উত্তেজনা যে মিসির আলীর গল্পগুলোকে যুগ যুগ ধরে অবিসংবাদিত ‘পেজ-টার্নার’ (একনাগাড়ে পড়ার মতো বই) বানিয়ে রেখেছে- এই বিষয়টি নিয়ে সদস্যরা লেখকের ব্যাপক প্রশংসা করেন।
সদস্যরা রহস্যগুলোর ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন এবং অলৌকিক সব ঘটনা কি আসলেই যুক্তির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব কি না- তা নিয়ে কথা বলেন।
উল্লেখ্য, রিডিং ক্যাফে’ হলো ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মীদের একটি বিশেষ উদ্যোগ, যা সহকর্মীদের মাঝে বই পড়ার অভ্যাস, চিন্তা এবং সুস্থ ধারার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে। বিভিন্ন বই নিয়ে নিয়মিত মাসিক আলোচনা আয়োজনের মাধ্যমে এই ক্লাবটি ব্যাংকের ভেতরে সৃজনশীলতা, মেধার বিকাশ এবং প্রতিনিয়ত শেখার একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছে।
