ভারতের ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনরত হাজারো শিক্ষার্থী রাঁচিতে বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) ট্রেন, বাস ও অন্যান্য যানবাহনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা রাঁচিতে জড়ো হন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও দ্য হিন্দু এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিক্ষোভকারীরা বিধানসভার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিধানসভা চত্বরসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেডও বসানো হয়েছে। রাঁচির অধিকাংশ স্কুল আজ বন্ধ রয়েছে।
এর আগে রবিবার প্রায় ছয় ঘণ্টার আলোচনার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে ১৪তম ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (জেপিএসসি) এবং ২০২৩ ও ২০২৫ সালের ব্যাকলগ পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। তবে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের তদন্তের দাবি থেকে সরে আসেননি।
আন্দোলনকারীরা উক্ত প্রিলিমিনারি পরীক্ষাসহ কালো তালিকাভুক্ত সংস্থা টিএসআর ডাটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সরকার ১৩টি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানালেও মাত্র তিনটি পরীক্ষা বাতিল করতে রাজি হয়েছে।
আন্দোলনের অন্যতম নেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান বলেন, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিকভাবে পরিচালিত হবে। আন্দোলনে ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার নেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতোও অংশ নিয়েছেন।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনের অংশ হিসেবে ছয়জন শিক্ষার্থী অনশন করছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকারের একাধিক দফা আলোচনা হলেও সিবিআই তদন্তের দাবিতে কোনো সমাধান হয়নি।
এদিকে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের মধ্যেই জেপিএসসিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সিআইডির তলবের পর কমিশনের তিন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এর আগে গত ২২ জুলাই জেপিএসসি চেয়ারম্যান এল খিয়াংতে পদত্যাগ করেন।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
