পিরোজপুরে সাত শিক্ষকের স্কুলে ৮ পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করেনি

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম
পিরোজপুর সদর উপজেলার পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবার এসএসসিতে ৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কেউই পাস করেনি। অথচ এ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সাতজন। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা।
 
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১০ অগাস্ট) ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে ৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রকাশিত ফলাফলে, ৮ জনের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। এতে বিদ্যালয়টির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে। তবে বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে মোট ৫০ থেকে ৬০ শিক্ষার্থী রয়েছে। 
 
এদিকে, মাত্র ৮ জন শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করার সুযোগ থাকার পরও সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের মান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
 
অকৃতকার্য এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন অংক ও ইংরেজির শিক্ষক ছিল না। ক্লাসও নিয়মিত হতো না। অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দেওয়া হতো।
 
এদিকে অভিভাবক বাসুদেব বলেন, 'আমরা সন্তানদের ৪/৫ টি প্রাইভেট পড়িয়েছি। কিন্তু বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হয়নি। কোনো দিন ১০টায় গিয়ে ১১টায় ছুটি হয়ে গেছে, আবার শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরাও চলে এসেছে।'
 
স্থানীয় কয়েকজন অবিভাবক বলেন , 'এখানের মূল সমস্যা হলো বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়টিতে কমিটিও নেই। স্কুল সাধারণত ৪টা পর্যন্ত  চলার কথা, কিন্তু অনেক সময় এর আগেই ছুটি হয়ে যায়। ফলে স্কুল কেন বন্ধ হচ্ছে, কেন শিক্ষার্থীরা পাস করছে না—এগুলো জিজ্ঞেস করার মতো কেউ নেই।'
 
তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাসলিমা আক্তার বলেন, 'একসময় মাত্র তিনজন শিক্ষক ছিল। অংক ও ইংরেজির শিক্ষক না থাকায় ঠিকমতো ক্লাস হয়নি। পরে শিক্ষক পাওয়া গেছে। এখন সাতজন শিক্ষক আছেন। প্রায় এক বছর শিক্ষক সংকট ছিল। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত ক্লাস করে না।'
 
পিরোজপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, শতভাগ ফেল করা বিদ্যালয়ের ফলাওফলগুলো  নিয়ে আমরা পর্যালোচনা করছি। রেজাল্ট খারাপ হওয়ার কারণগুলো তাদের কাছে জানতে চাওয়া হবে। জবাব পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত