৫ হাজার তরুণকে অর্থায়নের পরিকল্পনা

উপজেলা পর্যায়ের বেকার যুবকদের ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম

দেশের বেকার ও কর্মহীন তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন ঋণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্ভাব্য এ কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘উদ্যোগ’।

এর আওতায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় ১০ জন করে জুলাই যোদ্ধাকে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। যাদের বয়স ২৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। 

মঙ্গলবার ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈঠকে কর্মসূচিটির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নতুন ঋণ কর্মসূচির কাঠামো, তহবিলের পরিমাণ, ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শওকত আলী খান জানান, নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে প্রতি উপজেলায় ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করতে পারে।  

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ‘উদ্যোগ’ প্রকল্পের জন্য ৫০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে কর্মসূচিটি চালুর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। দেশের সব ব্যাংককে এ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য, চাকরির বাজারে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা বেকার তরুণদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে না রেখে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা। ক্ষুদ্র ব্যবসা, সেবা, উৎপাদন এবং অন্যান্য স্ব-কর্মসংস্থানমূলক উদ্যোগে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা হতে পারে।

দেশে তরুণ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ চাকরির ওপর নির্ভরশীল। তবে প্রয়োজনের তুলনায় কর্মসংস্থানের সুযোগ কম থাকায় অনেক শিক্ষিত ও কর্মক্ষম তরুণ দীর্ঘদিন বেকার থাকছেন। নিজের ব্যবসা বা উদ্যোগ শুরু করতে চাইলেও অর্থের অভাবে অনেকেই তা করতে পারছেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে এই অর্থের সংকট কিছুটা কমানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

নির্বাচিত তরুণদের ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ দেওয়া হলে নতুন ব্যবসা গড়ে ওঠার পাশাপাশি তাদের উদ্যোগে অন্যদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

‘উদ্যোগ’ প্রকল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হবে দেশের সব ব্যাংকের অংশগ্রহণ। নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্যাংকের পরিবর্তে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে ঋণ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন এলাকায় থাকা ব্যাংকের শাখা ও অন্যান্য সেবা কেন্দ্র ব্যবহার করা হবে।

এতে ঋণের আবেদন, উদ্যোক্তা যাচাই এবং ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোর বিদ্যমান কাঠামো কাজে লাগানো সম্ভব হবে। নতুন প্রকল্পের চূড়ান্ত নীতিমালা এখনো তৈরি হয়নি। ফলে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা, সুদের হার, জামানত, কিস্তির মেয়াদ এবং কোন ধরনের উদ্যোক্তারা অগ্রাধিকার পাবেন, এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এবিবির চেয়ারম্যান মাসরুর আরিফিন বলেন,  এটি প্রচলিত ব্যাংক ঋণ বা স্টার্টআপ অর্থায়নের মতো নয়; বরং এর মাঝামাঝি একটি ব্যবস্থা। নতুন ব্যবসা কিংবা চলমান ব্যবসা, কোনটিকে কীভাবে অর্থায়ন করা হবে তার আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ঋণের পাশাপাশি ভালো ঋণগ্রহীতাদের জন্য অনুদানের ব্যবস্থাও রাখার চিন্তা রয়েছে। 

তিনি বলেন, আমরা প্রচলিত ও অতিরিক্ত রক্ষণশীল ব্যাংকিং পদ্ধতিতে না গিয়ে তরুণদের সহায়তা করতে চাই। কিছু ঋণ খেলাপি হতে পারে, কিন্তু পাঁচ হাজার তরুণকে অর্থায়ন করে যদি এর মধ্যে ১০০ জনও সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠে, তাহলে সারা দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে বড় ধরনের জোয়ার সৃষ্টি হবে।

তরুণ ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আগে থেকেই বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা রয়েছে। তবে গত ৯ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য তখন কোনো সুদমুক্ত ঋণ কর্মসূচি চালু ছিল না। সহজ শর্তে ঋণ দিতে বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা চালু থাকার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

এর মধ্যে বেকার যুবকদের লক্ষ্য করে আলাদা ‘উদ্যোগ’ প্রকল্প চালু হলে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত