এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম

দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক সামরিক মহড়া শুরুর কয়েক দিন আগে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এটি দেশটির দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। খবর ফ্রান্স২৪।

বুধবার (১২ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় ওয়ানসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয় বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ। এটি ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দেয়।

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়টি শনাক্ত করেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি কোরীয় উপদ্বীপ ও জাপানের মধ্যবর্তী সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। তবে সেটি জাপানের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (ইইজেড) বাইরে পতিত হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র আগামী ১৭ আগস্ট থেকে বড় পরিসরে বার্ষিক সামরিক মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে। উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই এসব মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দেখে আসছে।

সিউল ও ওয়াশিংটন অবশ্য বলে আসছে, তাদের সামরিক মহড়া সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করাই এর উদ্দেশ্য।

উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে আসন্ন সামরিক মহড়ার বিরুদ্ধে পিয়ংইয়ংয়ের প্রতিবাদ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রশিক্ষণকে নিজেদের অস্ত্র পরীক্ষা বাড়ানোর অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে উত্তর কোরিয়া।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার যেকোনো ধরনের উসকানি মোকাবিলায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তুত রয়েছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে এ ধরনের পরীক্ষা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেন, উত্তর কোরিয়ার এই উৎক্ষেপণ জাপানের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। বেইজিংয়ে দুই দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে।

এর আগে গত ৬ আগস্ট উত্তর কোরিয়া একটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান ওই উৎক্ষেপণ শনাক্ত করে। জুনের শেষের পর সেটিই ছিল উত্তর কোরিয়ার প্রথম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। তবে উৎক্ষেপণের বিষয়টি উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

বাড়ছে ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একাধিক প্রস্তাবে উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এরপরও দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিয়মিতভাবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।

২০১৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের কূটনৈতিক আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর পিয়ংইয়ং তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আরও জোরদার করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত অস্ত্রভাণ্ডারকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলসহ বিভিন্ন সুবিধা আদায় করতে চাইতে পারেন কিম জং উন।

এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কও জোরদার করেছে উত্তর কোরিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সেনা ও গোলাবারুদ দিয়ে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে।

একই সঙ্গে চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির ঐতিহ্যবাহী মিত্র চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গত জুনে সাত বছর পর প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ং সফর করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত