হাসান-তাসকিন-এবাদতদের পেস দাপটের পর ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনে ব্যাট হাতেও দারুণ পারফর্ম করলো বাংলাদেশ। ব্যাটিং বিপর্যয়ের পুরনো রোগের উপশমের দিনে দলীয় পারফর্মের এক অনন্য নজির দেখাল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অজিদের ১৯৮ রানে আটকে দিয়ে দিনের বাকি সময়ে ১ উইকেট হারিয়ে ৯৬ রান তুলেছে বাংলাদেশ।
এতে শুক্রবার ১০২ রানে পিছিয়ে থেকে টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবে সফরকারীরা। ৯ উইকেট হাতে রেখে আপাতত বেশ শক্ত অবস্থানেই আছে শান্ত-হাসানরা। ওপেনার সাদমান ২০ রান ফিরলেও অপরাজিত ৬০ রানের জুটিতে দারুণ ছন্দে আছে তানজিদ হাসান (৩২) ও মুমিনুল হক (৩৫*)
হাসানের ক্যারিয়ার সেরা ফাইফারে দুইশ’র আগেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে শুরুর পর শেষটাও নিজের নামেই লিখেছেন হাসান মাহমুদ। অজিদের পেস তোপে ভুগিয়ে লাল বলের ক্রিকেটে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফাইফারসহ এক ইনিংসে এই প্রথম ৬ উইকেট তুলে নেন এই ডানহাতি পেসার। ১৭ ওভারে ৩ মেডেন দিয়ে মাত্র ৫৫ রান খরচায় তিনি শিকার করেন ৬টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। প্রীতি ম্যাচে দারুণ বোলিংয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্টে বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তনের শুরুটা দারুণভাবে রাঙিয়ে রাখলেন তিনি। নাহিদ রানার না থাকা নিয়ে দলের মাঝে যে হতাশা ছিল, তা একাই দূর করে সব আলো নিজের দিকে কেড়ে নেন হাসান।
মারারা স্টেডিয়ামে টসে জিতে শুরুটা ঠিকঠাকই করেছিল স্বাগতিকরা। জেক ওয়েদারাল্ডকে নিয়ে দেখেশুনেই খেলছিলেন আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেড। তবে ১২তম ওভারে ওয়েদারাল্ডকে (২৩) কট বিহাইন্ড করে জুটি ভাঙেন হাসান। এর পরের ওভারেই হেডকে (২২) বোল্ড করে সাজঘরের পথ দেখান তিনি।
এদিকে হাসানের পেস দাপটে বেশ ভালোভাবেই তাল মিলিয়েছেন এবাদত ও তাসকিনরা। ১৯তম ওভারে অজিদের ৬১ রানের মাথায় মারনাস লাবুশেনকে (১) ফিরিয়ে নিজের চিরচেনা স্যালুট উদযাপনে মাতেন এবাদত। এরপর প্রথম সেশনের শেষ ওভারে ক্যামেরন গ্রিনের (১৩) উইকেট তুলে নেন তাসকিন। স্কোরবোর্ডে তখন ৪ উইকেটে কেবল ৭৪ রান।
শুরুর সেই চাপ সামলে অ্যালেক্স ক্যারিকে নিয়ে থিতু হবার পথে এগোচ্ছিলেন স্টিভ স্মিথ। দুজনে মিলে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন গুরুত্বপূর্ণ ৫০ রান। তবে ৩৭তম ওভারের প্রথম বলে ক্যারিকে (১৩) বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন এবাদত। সাতে নামা ওয়েবস্টারকে (১২) ফিরিয়ে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান তাসকিন।
অজিদের অর্ধেকের বেশি দল ড্রেসিংরুমে ফেরার পর একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান স্মিথ, যিনি অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন। স্কোরবোর্ডে ১৭২ রান ওঠার পর শেষ ২৬ রান যোগ করতেই অজিদের বাকি চার ব্যাটারকে একে একে সাজঘরে পাঠান হাসান। শেষ পর্যন্ত ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। হাসানের ৬ উইকেট ছাড়া এবাদত ও তাসকিন ২টি করে উইকেট নেন।
ব্যাটিংয়েও দুর্দান্ত শুরু বাংলাদেশের
তৃতীয় সেশনের শুরুর দিকে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই ঠান্ডা মেজাজে খেলতে থাকেন দুই ওপেনার সাদমান ও তানজিদ। রান তুলছিলেন বেশ দ্রুত গতিতেই। তবে থিতু হবার আভাস দিলেও নবম ওভারের দ্বিতীয় বলে নাথান লায়নের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাদমান (২০)। দলীয় ৩৬ রানের মাথায় পতন হওয়া এটিই ছিল প্রথম দিনে অজিদের শিকার করা একমাত্র উইকেট, যা তুলে নেন মিচেল স্টার্ক।
দিনের বাকি সময়ে দলের ওপর আর কোনো চাপ আসতে দেয়নি তানজিদ ও মুমিনুলের অবিচ্ছিন্ন জুটি। ২৪ ওভারে ৪ রানের গড়ে ১ উইকেট হারিয়ে ৯৬ রান তুলে প্রথম দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিনের খেলা শেষে)
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮/১০ (স্মিথ ৭১, ওয়েদারল্ড ২৩, হেড ২২; হাসান ৬/৫৫, তাসকিন ২/৫৫, এবাদত ২/৩৯)।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস*: ৯৬/১; ২৪ ওভার (মুমিনুল ৩৫*, তানজিদ ৩২*, সাদমান ২০; স্টার্ক ১/২৮)