অর্থপাচার ঠেকাতে বাংলাদেশের প্রস্তুতি যাচাই এপিজির

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৬ পিএম

মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশের সক্ষমতা যাচাই করেছে এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানিলন্ডারিং (এপিজি)। একই সঙ্গে আগামী মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশনের প্রস্তুতি, অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ এবং দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য কার্যক্রম চিহ্নিত করেছে সংস্থাটির প্রতিনিধি দল।

গত ১১ থেকে ১৩ আগস্ট তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে এসে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, আর্থিক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে এপিজি দল।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রিলিমিনারি মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশন প্ল্যানিং (পিএমইপি) কর্মসূচির অংশ হিসেবে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এবং এপিজি প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাসী অর্থায়ন ও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র বিস্তারে অর্থায়ন প্রতিরোধে দেশের কাঠামো আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

এ সময় বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও পুঁজিবাজার খাতে বিগত সরকারের সময়ে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, ব্যাপক লুটপাট এবং বিদেশে অর্থপাচারের বিষয়েও আলোচনা হয়। এসব ঘটনা আগামী মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশনে বাংলাদেশের মূল্যায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে এপিজি প্রতিনিধি দল।

তবে আর্থিক খাত সংস্কার এবং পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এপিজি। এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুপারিশও করেছে প্রতিনিধি দল।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কিং কমিটির সভায় মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশনের প্রস্তুতির ব্যবহারিক দিক, অগ্রাধিকার ক্ষেত্র, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এপিজি প্রতিনিধি দল বিভিন্ন ইমিডিয়েট আউটকাম (আইও) নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে। এতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ), মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের (আরজেএসসি) কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, কাস্টমস, সীমান্ত ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের পূর্ববর্তী মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশনের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ এবং পরবর্তী সময়ে নেওয়া পদক্ষেপের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও পৃথক অধিবেশন করে এপিজি। এতে ব্যাংক, বীমা কোম্পানি, পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী, এনজিও, এনপিওসহ বিভিন্ন রিপোর্টিং সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিএফআইইউর প্রধান এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএফআইইউর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশনের প্রস্তুতি এবং দেশের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধ কাঠামো শক্তিশালী করার বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাসী অর্থায়ন এবং ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের বিস্তারে অর্থায়ন প্রতিরোধে একটি দেশের সার্বিক অবস্থান মূল্যায়নের প্রক্রিয়াকে মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশন বলা হয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পরিপালনে বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারণে ২০২৭–২৮ মেয়াদে এপিজির মাধ্যমে বাংলাদেশের মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে ২০০২, ২০০৯ ও ২০১৬ সালে বাংলাদেশের মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশন হয়। ২০০৯ সালের মূল্যায়নের পর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ওই তালিকা থেকে বেরিয়ে আসে।

২০১৬ সালের মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশনে এপিজি ও এর সদস্য দেশগুলোর মূল্যায়নে বাংলাদেশকে ‘কমপ্লায়েন্ট কান্ট্রি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আগামী মূল্যায়নে সেই অবস্থান ধরে রাখা এবং অর্থপাচার প্রতিরোধে সক্ষমতা আরও বাড়ানোই এখন বাংলাদেশের সামনে বড় পরীক্ষা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত