নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে এক হাজার কোটি টাকার তহবিল

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৮ এএম

দেশের তরুণদের নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ১,০০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)-এর সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের বৈঠকে এই প্রস্তাবিত ঋণ প্রকল্পের প্রাথমিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই তহবিলের মূল লক্ষ্য হলো দেশের বেকার ও যোগ্য তরুণদের সহজ শর্তে অর্থায়নের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা।

এ তহবিলের আওতায় কম সুদে ঋণ দেওয়া হবে। এ ঋণের ক্ষেত্রে কোনো জামানত লাগবে না। উন্নত ঋণ-সংস্কৃতি গড়ে তুলতে যথাসময়ে পরিশোধের ভিত্তিতে অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ ও ৫০০ কোটি টাকা অনুদানের মাধ্যমে পাঁচ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে। 

বৈঠক শেষে এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন সাংবাদিকদের জানান, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন (রিফাইন্যান্সিং) ও অনুদান প্যাকেজ নিয়ে কাজ চলছে। যেসব তরুণ ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী কিন্তু প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাবে করতে পারছেন না তাদের এ উদ্যোগের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন। এ ঋণের সুদহার ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। ফলে প্রচলিত ব্যাংক ঋণের ১১ থেকে ১৫ শতাংশ বা এনজিও ঋণের তুলনায় উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থের খরচ অনেক কম হবে। 

মাসরুর আরেফিন আরও বলেন, শুধু ঋণ দেওয়াই নয়াউদ্যোক্তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে অনুদানের ব্যবস্থাও থাকছে। ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ ও ব্যবসার পারফরম্যান্স বিবেচনায় ব্যাংকগুলো করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর তহবিল থেকে সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসাবে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ, কোনো উদ্যোক্তা ১০ লাখ টাকা ঋণ পেলে পরবর্তী সময়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে আরও ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ঋণের ক্ষেত্রে কোনো জামানত নেওয়া হবে না। ফলে সম্পদ বা জমি বন্ধক রাখার সক্ষমতা না থাকলেও যোগ্য তরুণদের ব্যবসা শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, উদ্যোক্তা নির্বাচনে উপজেলা পর্যায়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক বা নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত উদ্যোক্তা বাছাই করা হবে। এর মাধ্যমে তদবির বা প্রভাব খাটিয়ে অযোগ্য ব্যক্তির ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমানোর চেষ্টা করা হবে।

এবিবির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন আরও বলেন, দেশের ৫০০টির বেশি উপজেলায় ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে সম্ভাব্য উদ্যোক্তা চিহ্নিত ও যাচাই করবে। উদ্যোক্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যবসার সম্ভাবনা, দক্ষতা ও প্রকৃত উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত