এক নামে চাকরি, অন্য নামে সম্পদ!

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৬ এএম

জাতীয় পরিচয়পত্র ও চাকরির নথিতে জন্মতারিখ ১৯৮০ সাল হলেও পাসপোর্টে তা ১৯৬৩। একই ব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিতে জন্মসালের ব্যবধান প্রায় ১৭ বছর! শুধু তা-ই নয়, সরকারি চাকরি করছেন ‘আনোয়ারা’ নামে, অথচ জমির দলিল ও অন্যান্য নথিতে ব্যবহার করেছেন ‘জাহানারা’ নাম। এমন একাধিক অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে কুমিল্লা নাঙ্গলকোট উপজেলার মাইরাগাঁও মন্নাফ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনোয়ারা আক্তারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুসারে আনোয়ারা আক্তারের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর এই অভিযোগনামা জারি করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চাকরির নথি ও জাতীয় পরিচয়পত্রে আনোয়ারা আক্তারের জন্মতারিখ ৮ মার্চ ১৯৮০। অথচ তার পাসপোর্টে জন্মতারিখ উল্লেখ রয়েছে ২ জানুয়ারি ১৯৬৩। অভিযোগে আরও দেখা যায়, নথিতে তার বড় ছেলের জন্মসাল ১৯৮৩। এসএসসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর অনুযায়ী ১৯৯৮ সালে তিনি চৌদ্দগ্রামের বাকগ্রাম কাজী আহমদ আলী হাইস্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। পাসপোর্টের জন্মতারিখ অনুযায়ী ১৯৯৮ সালে পরীক্ষা দেওয়ার সময় তার বয়স দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ বছর। অন্যদিকে চাকরির নথি মানলে বয়স হয় মাত্র ১৮ বছর। ফলে কোন তথ্যের ভিত্তিতে তার এসএসসি ও এনআইডির বয়স নির্ধারিত হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিভাগীয় মামলায় আনোয়ারা আক্তারের সম্পত্তি ক্রয়ের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সরকারি চাকরিতে ‘আনোয়ারা আক্তার’ নামে থাকলেও ২০১৩ সালের দুটি দলিল এবং ২০১৯ সালের একটি দলিলে নাম ব্যবহার করা হয়েছে ‘মোসা. জাহানারা আক্তার ভুলু’। সরকারি নাম গোপন রেখে ভিন্ন নামে জমি কেনার কারণ এবং আনোয়ারা ও জাহানারা একই ব্যক্তি কি না, সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে তদন্তে।

জালিয়াতির বিষয়টি একপ্রকার স্বীকার করে নিয়েছেন অভিযুক্ত শিক্ষক আনোয়ারা আক্তার। তিনি বলেন, আমার স্বামী এই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর গ্রামের সবাই মিলে আমাকে এই চাকরির ব্যবস্থা করে দেন। চৌদ্দগ্রামের স্কুল থেকে ১৯৯৮ সালে বয়স ১৯ বছর বানিয়ে আমার ভাই আমাকে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। তখন আমার আসল বয়স ছিল ৩০ বছর। চাকরির সুবিধার জন্য এনআইডি ও এসএসসিতে জন্মসাল ১৯৮০ করেছি। নামের অসঙ্গতি নিয়ে তার বক্তব্য, আনোয়ারা ও জাহানারা দুটিই আমার নাম।

তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল ওহাব বলেন, অভিযোগের পর আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জেলায় পাঠিয়েছি। এরপর বিভাগীয় মামলা ও শুনানি হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত