জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনে একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান এসব প্রকল্প অনুমোদন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের বাস্তবায়নে পরিবেশের ভারসাম্য ও এলাকার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণœ রাখার নির্দেশ দেন। সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, একনেকে উপস্থাপিত ১২টি প্রকল্পের মধ্যে ১০টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের কয়েকটিতে পর্যবেক্ষণ ও কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। আর দুটি প্রকল্প পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও সভায় সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন ও সংস্কারের কৌশলপত্র বা স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্কের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। গত ১৮ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় প্রধানমন্ত্রী পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন ও সংস্কারের এই স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক বা অর্থনৈতিক কৌশলপত্রের অনুমোদন দেন।
অনুমোদন পাওয়া রামু সেনানিবাসের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প প্রসঙ্গে জোনায়েদ সাকি বলেন, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে কক্সবাজারের রামু সেনানিবাসের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির অবকাঠামো নির্মাণে এলাকার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও ভূপ্রকৃতি বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষ করে পাহাড়ি ও উঁচু-নিচু এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় পাহাড় কেটে বা ভূমি সমতল করে স্থাপনা নির্মাণ না করে বিদ্যমান ভূপ্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নকশা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
অনুমোদিত ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় হবে ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ থেকে জোগান দেওয়া হবে বাকি ৯৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। প্রকল্পগুলোর মধ্যে ছয়টি নতুন এবং চারটি সংশোধিত প্রকল্প।
সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনাসমূহ প্রতিস্থাপন ও পুনর্নিমাণ’ এবং ‘১০টি মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ১৯টি হোস্টেল ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী। এ ছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘সেতুগুলোর স্মার্ট রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তির সক্ষমতা উন্নয়ন’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প হলো ‘ধরলা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলা রক্ষা’ এবং ‘চট্টগ্রাম জেলার সীতাকু- উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্প। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতা জোরদারকরণ’ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন পেয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প হলো ‘জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী এবং ‘ঢাকাস্থ ডেসকো এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী। এ ছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘রামু সেনানিবাসের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ৯টি প্রকল্প সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এগুলো হলোবিএসএল-৩ গবেষণাগার স্থাপন ও ভ্যাকসিন এবং বায়োলজিকস গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা; বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (বেস্ট) প্রথম সংশোধিত; সুন্দরবন সুরক্ষা, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সমিশন গ্রিড সম্প্রসারণ দ্বিতীয় সংশোধিত; ঢাকার গুলশানে ১৩২/৩৩/১১ কেভি ভূগর্ভস্থ গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ; ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন দ্বিতীয় সংশোধিত; মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ চতুর্থ পর্যায়; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জনসেবা প্রদানে নিউ মিডিয়ার সর্বোত্তম ব্যবহার এবং কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলা এবং নোয়াখালীর ভাসানচরে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রথম সংশোধিত প্রকল্প।