আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা

তৃতীয় সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, চিন্ময়ের দুই আবেদন নামঞ্জুর

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম

আলোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন। এসময় আরেকজন স্বাক্ষী রাষ্ট্রপক্ষে হাজির করলে আদালত তার সাক্ষ্য আপতত বন্ধ রাখেন এবং পরবর্তী তারিখ এর জন্য রেখে দেন। 

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজির সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে উপস্থিত ও পলাতক আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষীকে জেরা করেন।

এদিন মামলার অন্যতম আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে তার জামিনের আবেদন এবং রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষীকে জেরার জন্য সময় চেয়ে পৃথক দুটি দরখাস্ত দাখিল করা হয়। শুনানি শেষে আদালত উভয় আবেদন নামঞ্জুর করেন।

শুনানির সময় আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির করা হয়। অন্য আসামিদের কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাবা এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে ১ম সাক্ষ্য দিয়েছেন। তার জেরা সম্পন্ন করার জন্য আসামিপক্ষ, বিশেষ করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে, প্রায় ছয়বার সময়ের আবেদন করা হয়েছিল। একইভাবে দ্বিতীয় সাক্ষীর জেরাও সম্পন্ন করা হয়নি। আজ তৃতীয় সাক্ষীকে জেরার জন্যও সময় চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বারবার সময়ের আবেদন করে বিচারিক কার্যক্রম বিলম্বিত করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করছে। রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুত ও নির্ধারিত সময়ে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করে মামলাটি নিষ্পত্তির দিকে এগিয়ে নিতে চায়।

২০ জুলাই মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাত আদালতে সাক্ষ্য দেন। ওই দিন সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং আদালত দ্বিতীয় সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন করার জন্য আজ ২০ আগস্ট দিন ধার্য করে ছিলেন। 

মামলার নথি ও পূর্ববর্তী আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাশের জামিন আবেদন নামঞ্জুর আদেশ কেন্দ্র করে তার অনুসারিদের হাতে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। এ ঘটনায় তার বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ মোট ৩৯জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়। বর্তমানে মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা পর্যায়ে বিচারাধীন। মামলায় ২৭ জন আসামি গ্রেপ্তারের পর কারাগারে ও ১২ জন পলাতক রয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত