সরাইলে তিন এনজিও অফিসে ডাকাতি, ৫ লক্ষাধিক টাকা লুট

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৩ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সিদীপ, গার্ক ও পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচি নামে তিনটি এনজিও অফিসে ডাকাতি হয়েছে। মুখোশ পরা সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে অফিস থেকে নগদ ৫ লক্ষাধিক টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। ডাকাতিতে বাধা দেওয়ায় রাব্বি মিয়া নামে এক হিসাবরক্ষককে মারধর ও কুপিয়ে আহত করেছে ডাকাতরা। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন সরাইল সদরের কুট্টাপাড়া এলাকায় সামছুদ্দিন নান্নু মিয়ার বহুতল বিশিষ্ট ভবনের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় এই ঘটনা ঘটে। গতকাল শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সরাইল থানার পুলিশ। গত রাত ৯টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। গ্রেপ্তারও নেই।

পুলিশ, ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে মূল ভবনের প্রধান ফটক ও অফিস কক্ষের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করেছে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল। তারা ভবনের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক কক্ষের দরজার বাইরের ছিটকানি লাগিয়ে দেয়। পরে অফিস কক্ষের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে কর্মকর্তাদের দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে ড্রয়ার ভেঙে নগদ টাকা লুটে নেয় তারা। এ সময় তৃতীয় তলায় সিদীপ-এর হিসাব কর্মকর্তা রাব্বি মিয়া টাকা রক্ষার চেষ্টা করেন। এ সময় ডাকাতরা তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। গুরুতর আহত রাব্বি মিয়াকে প্রথমে সরাইল ও পরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

গার্কের ফিল্ড অফিসার স্বপন রাজবংশী, সারোয়ার ও এরিয়া ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা বলেন, তালা কাটার শব্দে ঘুম থেকে উঠে দেখি ডাকাতরা বাইরের দিকে আমাদের দরজার ছিটকানি লাগিয়ে দিয়েছে। চিৎকার করেও কারও সাড়া মেলেনি। ভোরবেলা কাজের বুয়া এসে খুলে দিয়েছেন। ডাকাতরা সিসি টিভির রেকর্ড বক্স নিয়ে গেছে। তবে দক্ষিণ পাশের ভবনে সিসি টিভি আছে। সরাইল থানা পুলিশ, সার্কেল এসপি, ডিবি এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেছে।

সিদীপের শাখা ব্যবস্থাপক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ডাকাতরা প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকা নিয়েছে। এ বিষয়ে অবশ্যই মামলা করা হবে।

সরাইল থানার ওসি মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ডাকাতির ঘটনায় তদন্ত চলছে। এনজিও প্রতিষ্ঠান এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত