আইওএম-ডিএফডি বিতর্ক প্রতিযোগিতা

যুক্তিতর্কে রেমিট্যান্সের টেকসই বিনিয়োগ

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম

অভিবাসীদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স পারিবারিক সহনশীলতা, স্থানীয় অর্থনীতি এবং দেশের উন্নয়নযাত্রাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি কীভাবে অভিবাসী ও তাঁদের পরিবারের জন্য দীর্ঘস্থায়ী সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে এবং টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে, তা নিয়ে শনিবার (২২ আগস্ট) ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তরুণ বিতার্কিকরা তাঁদের অভিমত তুলে ধরেন।

যুক্তিতর্কে উঠে আসে, কীভাবে অভিবাসীদের রেমিট্যান্স আরও কৌশলগতভাবে শিক্ষা, সঞ্চয়, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহনশীলতায় ব্যবহার করা যায়। বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে অভিবাসী শ্রমিকদের অবদানও তুলে ধরা হয় এ বিতর্ক প্রতিযোগিতায়। পাশাপাশি তরুণদের রেমিট্যান্স থেকে পরিবার ও সমাজের জন্য দীর্ঘস্থায়ী সম্ভাবনা সৃষ্টির বিষয়ে যুগোপযোগী চিন্তা করতে উৎসাহিত করা হয়।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) অনুষ্ঠিত এই বিতর্কে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এসইউবি)-এর তরুণ বিতার্কিকরা অংশ নেন। বিতর্কের বিষয় ছিল, ‘অভিবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই)-তে বিনিয়োগই উত্তম কৌশল।’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত এবং ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসি (ডিএফডি) পরিচালিত এই ছায়া সংসদ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

দীর্ঘদিন ধরে রেমিট্যান্স বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য একটি চালিকাশক্তি হয়ে আছে, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং আবাসনের খরচ মেটাতে ব্যবহৃত হয়। আয়োজকদের মতে, এখন বড় সুযোগ হলো এই অর্থের কিছু অংশ ব্যবসায়িক বিনিয়োগে রূপান্তর করা, যা পারিবারিক ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।

বিতর্ক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বনদ বলেন, ‘যখন অভিবাসন নিরাপদ, নিয়মিত এবং সুশৃঙ্খল হয়, তখন এর সুফল একক অভিবাসীর বাইরেও পরিবার, সমাজ এবং বাংলাদেশের বৃহত্তর উন্নয়নে পৌঁছাতে পারে। প্রতিটি রেমিট্যান্স বাংলাদেশি অভিবাসীদের কঠোর পরিশ্রম, সহনশীলতা ও প্রতিশ্রুতির সাক্ষ্য বহন করে। রেমিট্যান্সের একটি অংশ এসএমইতে বিনিয়োগ করলে তা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ উন্মুক্ত করতে পারে।’

ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসির (ডিএফডি) চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বিতর্কে অভিবাসীদের দেশের ‘প্রকৃত বীর’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি রেমিট্যান্স স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যার প্রায় ২৫ শতাংশ অভিবাসনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান পায়। বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকলে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট বেশি হতে পারত।’

এ ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সরকারি দল ডিআইইউ বিরোধী দল এসইউবিকে পরাজিত করে। চারজন বিচারক প্রতিযোগিতাটি মূল্যায়ন করেন। তাঁরা হলেন অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি ও দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের বিশেষ প্রতিনিধি দৌলত আক্তার মালা, যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার আহমেদ রেজা, বাংলাদেশ ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (ডিক্যাব) সাবেক সভাপতি মাইনুল আলম এবং আইওএম বাংলাদেশের ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট (গভর্নমেন্ট লিয়াজোঁ) ড. এস এম মোর্শেদ।

আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ: তারেক মাহমুদ, মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন টিম লিড, আইওএম বাংলাদেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত