অলিসের জাদুতে সুপারকাপ জিতে মৌসুম শুরু বায়ার্নের

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৮ এএম

জার্মান ফুটবলের নতুন মৌসুম শুরুর আগেই নিজেদের আধিপত্যের জানান দিল বর্তমান ঘরোয়া ডাবল জয়ী বায়ার্ন মিউনিখ। সিগনাল ইদুনা পার্কে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে মৌসুমের প্রথম ট্রফি হিসেবে জার্মান সুপারকাপের মুকুট নিজেদের মাথায় তুলেছে বাভারিয়ানরা। মাইকেল অলিসের দুর্দান্ত এক গোল এবং একটি অ্যাসিস্টের সুবাদে এই রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় ভিনসেন্ট কোম্পানির দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বায়ার্ন। স্বাগতিক ডর্টমুন্ডের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে প্রথমার্ধেই দুই গোলের লিড নেয় অতিথিরা। ম্যাচের ২৮ মিনিটে ক্লাবের হয়ে প্রতিযোগিতামূলক অভিষেকে মাঠে নেমে দারুণ এক শটে বল জালে জড়িয়ে বায়ার্নকে উল্লাসে মাতান নতুন ডিফেন্ডার ন্যাথানিয়েল ব্রাউন। এই গোলটির পেছনে অ্যাসিস্টের কারিগর ছিলেন ফরাসি তারকা অলিসে।

এরপর প্রথমার্ধের ঠিক অন্তিম মুহূর্তে (ইনজুরি টাইমে) ডি-বক্সে বল পেয়ে নিজের গতি ও পজিশনিংয়ের নান্দনিক নৈপুণ্যে দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন অলিসে নিজেই। প্রথমার্ধ জুড়ে তাই ছিল বায়ার্নের নিরঙ্কুশ আধিপত্য।

বিরতির পর কামব্যাক করার মরিয়া চেষ্টা চালায় স্বাগতিক ডর্টমুন্ড। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দলটির নতুন খেলোয়াড়রা আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেন এবং বেশ কয়েকবার বায়ার্নের রক্ষণভাগে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। অবশেষে ম্যাচের ৭৫ মিনিটে দ্রুতগতির এক তিন পাসের চমৎকার আক্রমণে ব্যবধান কমায় ডর্টমুন্ড; ফাবিও সিলভার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ২-১ করে স্বাগতিকরা।

এরপর সমতায় ফেরার দারুণ কিছু সুযোগ পেলেও বায়ার্নের জমাট রক্ষণ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় আর জালের দেখা পায়নি তারা। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (৯০ মিনিটে) বায়ার্নের বদলি ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাবারির সাথে বাজে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ডর্টমুন্ড ডিফেন্ডার রামি বেনসেবাইনি। যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে আলেকজান্ডার বেয়ারের একটি শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় স্বাগতিকদের।

ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্সে দারুণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি স্কাই জার্মানিকে বলেন, ‘এটি আমাদের মৌসুমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক জয় ছিল। বিশেষ করে বরুশিয়ার মাঠে গিয়ে এমন পারফরম্যান্স দেখানো দারুণ ব্যাপার। খেলোয়াড়দের মাঝে যে লড়াইয়ের মানসিকতা এবং শক্তি আমি দেখেছি, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। অনেকে মনে করেছিল গতবার সবকিছু জেতার পর দল ঝিমিয়ে পড়বে, কিন্তু আমাদের ক্ষুধা কমেনি বরং আরও বেড়েছে।’

দলের হয়ে পুরো ৯০ মিনিট খেলে জয় উদযাপনের পর বায়ার্ন ফরোয়ার্ড কেইন ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই এমন কঠিন প্রতিপক্ষের মাঠে জয় পাওয়াটা আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমরা যেভাবে শুরু করতে চেয়েছিলাম, ঠিক সেভাবেই মিশন শুরু করতে পেরেছি।’

অন্যদিকে, ঘরের মাঠে শিরোপা হারিয়ে কিছুটা হতাশ হলেও দলের দ্বিতীয় অর্গের পারফরম্যান্স নিয়ে ইতিবাচক সুর শুনিয়েছেন ডর্টমুন্ড কোচ নিকো কোভাচ। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের প্রথমার্ধের জড়তা দ্বিতীয়ার্ধে কাটিয়ে ওঠা গেছিল এবং আমাদের পারফরম্যান্স ভালো ছিল। তবে বায়ার্ন যে মানের দল, সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে হলে আমাদের আরও অনেক বেশি কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’ 

এই জয়ে জার্মান সুপারকাপের ইতিহাসে নিজেদের রেকর্ড আরও দীর্ঘায়িত করল বায়ার্ন, যা তাদের সর্বমোট ১২তম সুপারকাপ জয়। আগামী শুক্রবার ঘরের মাঠে ভিএফবি স্টুটগার্টের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বুন্দেসলিগার শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করবে বাভারিয়ানরা।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত