রোটাখ-এগার্ন: বায়ার্নের কাছে গোল খাওয়াতেই যাদের আনন্দ

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৮ এএম
প্রতি বছর ফুটবল মৌসুম শুরুর আগে দলবদলের বাজার বা বড় বড় ক্লাবের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি নিয়ে যখন মাতামাতি চলে, ঠিক তখনই ফুটবলের লাইমলাইটে চলে আসে জার্মানির এক অচেনা, অখ্যাত ক্লাব—এফসি রোটাখ-এগার্ন। তবে কোনো ট্রফি জিতে বা বিখ্যাত ফুটবলার দলে ভিড়িয়ে তারা আলোচনায় আসে না। বিশ্ব ফুটবলে তাদের পরিচিতি ও খ্যাতির একমাত্র কারণ—জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখের কাছে প্রতি বছর ‘হালি হালি’ গোল খাওয়া!
বায়ার্নের নির্মম গোল উৎসব
জার্মানির ফুটবল কাঠামোর নবম স্তরের এই অপেশাদার ক্লাবটির জালে বল জড়াতে কোনো দয়ামায়া দেখায় না বায়ার্ন মিউনিখ। প্রতি বছর গ্রীষ্মকালীন অনুশীলনের অংশ হিসেবে ঐতিহ্যগতভাবে এই দলটির মুখোমুখি হয় বায়ার্ন। আর প্রতি ম্যাচেই স্কোরবোর্ড রূপ নেয় কোনো বাস্কেটবল বা ক্রিকেট ম্যাচের স্কোরে।
এক নজরে বায়ার্নের বিপক্ষে রোটাখ-এগার্নের গোল খাওয়ার খতিয়ান:
 
  • ২০১৯: বায়ার্ন ২৩-০ রোটাখ-এগার্ন
  • ২০২৩: বায়ার্ন ২৭-০ রোটাখ-এগার্ন
  • ২০২৪: বায়ার্ন ১৪-১ রোটাখ-এগার্ন (এই ম্যাচে ১টি গোল দিয়ে ইতিহাস গড়েছিল দলটি)
  • ২০২৬ (সাম্প্রতিক ম্যাচ): বায়ার্ন ১৫-০ রোটাখ-এগার্ন
গোল খেয়েই কেন এই উদযাপন?
সাধারণত যেকোনো দল ৪ বা ৫ গোল খেলেই লজ্জায় মুখ লুকায়। সেখানে ২৭ বা ১৫ গোল খাওয়া দলটির ফুটবলাররা ম্যাচ শেষে হাসিমুখে মাঠ ছাড়েন, বায়ার্নের তারকাদের সাথে জার্সি বদল করেন। এর কারণ, রোটাখ-এগার্নের খেলোয়াড়রা কেউ পেশাদার ফুটবলার নন। তারা মূলত স্থানীয় চাকরিজীবী, কাঠমিস্ত্রি, দোকানদার কিংবা শিক্ষার্থী; যারা শখের বশে ফুটবল খেলেন। হ্যারি কেইন, জশুয়া কিমিচ বা টমাস মুলারদের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের বিরুদ্ধে একই মাঠে ৯০ মিনিট খেলার সুযোগ পাওয়াটাই তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
যেভাবে শুরু এই ঐতিহ্যের
জার্মানির বাভারিয়া অঞ্চলের অত্যন্ত সুন্দর ও মনোরম এক হ্রদ 'তেগেরনসি'। এই হ্রদের পাড়েই অবস্থিত রোটাখ-এগার্ন গ্রামটি। প্রতি বছর বায়ার্ন মিউনিখ তাদের গ্রীষ্মকালীন ফিটনেস ক্যাম্প করতে এই মনোরম এলাকায় আসে। আর স্থানীয় আতিথেয়তার সৌজন্য হিসেবে বায়ার্ন এই ছোট্ট ক্লাবের সাথে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলে, যা থেকে উপার্জিত অর্থ স্থানীয় ফুটবল ক্লাবের উন্নয়নে ব্যবহার করা হয়।
পেশাদার ফুটবলের কঠিন পরিসংখ্যানের বাইরে রোটাখ-এগার্ন যেন ফুটবলের এক আদিম আনন্দের গল্প বলে। যেখানে জয়-পরাজয় বা গোল খাওয়াটা বড় নয়, বরং বিশ্বসেরাদের সাথে মাঠ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দটাই আসল। আর এই গোল খাওয়ার 'ঐতিহ্য' দিয়েই ফুটবল বিশ্বে নিজেদের এক অনন্য ও মজার স্থান দখল করে রেখেছে ছোট্ট এই বাভারিয়ান ক্লাবটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত