বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছেন, আজ একটি সংকেত দেব, কালই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ চলে আসবে বিষয়টি এমন নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আমরা একবার, দুবার, তিনবার একই ধরনের ধারাবাহিক বার্তা দিলে তখন বিনিয়োগকারীরা বিশ্বাস করতে শুরু করবেন যে বাংলাদেশ সত্যিই যা বলছে, তা বাস্তবায়নে আন্তরিক।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীতে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টর বাজেট ব্রিফিং: ইনভেস্টমেন্ট-রিলেটেড বাজেট আউটকামস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আহসান হাবিব।
আশিক চৌধুরি বলেন, বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সম্পর্কে দুটি বড় উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন নীতি ধারাবাহিকতার অভাব এবং রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার অনিশ্চয়তা। এর মধ্যে সরকার অন্তত নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার একটি শক্ত বার্তা বাজেটের মাধ্যমে দিতে চেয়েছে।
বিডা চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের কাছে নিয়মিতভাবে বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং গণমাধ্যম থেকে জানতে চাওয়া হতো, বাংলাদেশে বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় বাধা কী। তাদের প্রধান উদ্বেগ ছিল বাংলাদেশে নীতির ধারাবাহিকতা নেই, রাজনৈতিক ধারাবাহিকতাও নেই।
তিনি বলেন, বাজেট হলো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, যার মাধ্যমে সরকার বিনিয়োগকারীদের কাছে নীতির ধারাবাহিকতার বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। তবে এই আস্থা একদিনে তৈরি হবে না।
আশিক চৌধুরী বলেন, এবারের বাজেটে বিভিন্ন খাতে কর সুবিধার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে যে সরকার দীর্ঘমেয়াদি নীতি অনুসরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, পাঁচ বছরের করনীতির রোডম্যাপ বাংলাদেশের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। ছয় মাস আগেও কেউ ভাবেনি যে সরকার পাঁচ বছরের করনীতি আগাম ঘোষণা করবে। আমাদের দেশ আগে কখনও এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত দিকনির্দেশনা দেয়নি। তাই এটিকে আমরা একটি ‘টেস্ট কেস’ হিসেবেও দেখছি। তার ভাষায়, শূন্য থেকে পাঁচ বছরে আসাটাই বড় অগ্রগতি। ভবিষ্যতে এটি আরও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।
বিডা চেয়ারম্যান বলেন, জ্বালানি ও গ্যাস সংকট সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই সংকটের রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়। আমরা সবাই জানি সমস্যাটি কোথায় এবং সরকারও এটি নিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এর কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নেই। তাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান যত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়, সেদিকেই গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিডা ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা যৌথভাবে এবারের বাজেটের ফলাফল উপস্থাপন করেন। এতে দেখা যায়, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে বিডার দেওয়া ১৭টি খাতভিত্তিক ও নীতিগত সুপারিশের মধ্যে ১৪টি, অর্থাৎ ৮২ শতাংশ, সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণসংক্রান্ত ১৯টি প্রস্তাবের মধ্যে ১২টি, অর্থাৎ ৬৩ শতাংশ, গ্রহণ করা হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়, প্রধান নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে সিঙ্গেল উইন্ডোর আওতায় ব্যবসায়িক অনুমোদনের ক্ষেত্রে ১৪ দিনের সেবা নিশ্চয়তা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন না হলে স্বয়ংক্রিয় অনুমোদনের ব্যবস্থা, বন্ড লাইসেন্সের মেয়াদ তিন বছর করা এবং বন্ডেড সুবিধার কার্যপরিধি সম্প্রসারণ।
