নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার অন্যতম প্রধান ব্যবসাকেন্দ্র মৌখাড়া হাট থেকে আহম্মেদপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার সড়কের সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া এই সড়কটি ব্যবহার করে প্রায় ১০ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলার বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নওদাজোয়াড়ি কালভার্ট থেকে আলীপুর মাদরাসা পর্যন্ত সড়কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে পুরো সড়ক পানিতে ডুবে যায়। তখন রাস্তার গর্ত বোঝা যায় না। ঝুঁকি নিয়ে চলাচলের সময় মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন উল্টে পানিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। অনেক সময় গর্তে ট্রাকের চাকা দেবে গিয়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি শুক্রবার মৌখাড়া হাটে বড়াইগ্রাম ছাড়াও আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষ সিএনজিচালিত থ্রি-হুইলার, মোটরসাইকেল, ভ্যান ও ভুটভুটি নিয়ে আসেন। ক্রেতা-বিক্রেতারাও ট্রাকে করে গরু-ছাগল নিয়ে এই হাটে আসেন। স্থানীয় মানুষের চলাচলের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু প্রায় এক দশক ধরে সড়কটির এই অংশে স্থায়ী সংস্কার হয়নি। কখনো বড় গর্তে ইট ফেলে, আবার কখনো সড়কে ইট বিছিয়ে দায়সারা সংস্কার করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মৌখাড়া হাট থেকে মাত্র এক কিলোমিটার উত্তরেই গুরুদাসপুর উপজেলা। বড়াইগ্রামের বাসিন্দাদের পাশাপাশি গুরুদাসপুরের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষও এই সড়ক দিয়ে নাটোর, রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জরুরি ভিত্তিতে রাজশাহীতে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এই পথ ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী থাকায় দুই উপজেলার মানুষই সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
ভাঙাচোরা সড়কটির বিকল্প হিসেবে কেউ কেউ বড়াইগ্রাম থানা মোড় হয়ে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ক ব্যবহার করেন। তবে এতে তাদের অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়।
মৌখাড়া ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান বলেন, একটি কলেজ, একটি আলিম মাদরাসা, তিনটি উচ্চবিদ্যালয় এবং কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। খানাখন্দ, কাদাপানি ও গর্তের কারণে শত শত শিক্ষার্থীকে নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ট্রাকচালক মনির হোসেন বলেন, গর্তে ট্রাকের চাকা দেবে গিয়ে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। কখনো কখনো গাড়িও বিকল হয়ে পড়ে। এ কারণে এই সড়কে ট্রাক চালানো কঠিন হয়ে গেছে।
অটোরিকশাচালক আরমান আলী বলেন, পানিতে সড়কের গর্ত ঢেকে যাওয়ায় রাস্তা দেখা যায় না। এই পথে চলাচল করতে গেলে প্রায়ই গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়।
নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান সরকার জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশ আরসিসি ঢালাই করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জনভোগান্তি কমাতে অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটির কাজ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
বরিশালের এই রাস্তায় পা দিলেই বিপদ! কেন এত আতঙ্ক?
কাঁচা রাস্তায় দুর্ভোগ, ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ