ঋণ আদায়ে ১০ হাজার মামলা, একীভূতকরণে এগোচ্ছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক

খেলাপি ঋণ আদায়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার মামলা দায়ের করেছে।

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:২১ পিএম

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ঋণ আদায়, পুনর্গঠন ও সার্বিক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকটি ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার মামলা দায়ের করেছে। আরও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগের (বিআরডি) একটি সভায় এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ ও পুনর্গঠন, পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন, মানবসম্পদ সমন্বয়, শাখা একীভূতকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিচালন কার্যক্রম একীভূত করার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সভায় জানানো হয়, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় খেলাপি ঋণ আদায়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রচলিত আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রস্থান নীতি (এক্সিট পলিসি) ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর)-এর মতো সমঝোতাভিত্তিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আগের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সময়ে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি ও সম্পদ অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পরিচালিত ফরেনসিক নিরীক্ষা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

গত ছয় মাসে ব্যাংকটির পুনর্গঠন কার্যক্রমে বেশ কিছু অগ্রগতি হয়েছে। স্বতন্ত্র পরিচালকদের প্রাধান্য দিয়ে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। গত ১৬ জুলাই থেকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোয় প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে মূল ব্যাংকিং ব্যবস্থা (সিবিএস), সুইফট ও আরএমএসহ তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো একীভূত করার কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে আমানতকারীরা যাতে পাঁচটি ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে আমানতের অর্থ তুলতে পারেন, সে জন্য একটি অভিন্ন ব্যবস্থা চালুর কাজও সম্পন্ন হয়েছে।

শাখার অবস্থান, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, গ্রাহকসেবা ও পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে ৭৮০টি শাখা এবং ১ হাজার ৫০০টি ব্যবসায়িক ইউনিট একীভূতকরণ ও যৌক্তিকীকরণের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠন, ঋণ আদায়, মামলা নিষ্পত্তি, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, শাখা ও ব্যবসায়িক ইউনিট একীভূতকরণ এবং প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করছে বিআরডি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যাশা, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকটির সুশাসন, পরিচালন দক্ষতা ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে ঋণ আদায় ত্বরান্বিত, পরিচালন ব্যয় কমানো এবং ব্যাংকের আটকে থাকা অর্থ উৎপাদনশীল খাতে পুনঃপ্রবাহিত করা সম্ভব হবে।

৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা রাষ্ট্র-মালিকানাধীন বাংলাদেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক হিসেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সম্পদ ও আমানত ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত