মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সীমান্তবর্তী কুমারশাইল এলাকায় বিজিবির সঙ্গে ভারতীয় চোরাকারবারিদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বলাই দাস নামে এক ভারতীয় চোরাকারবারিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসময় তার কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি ও ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে তার পরিচয় জানাতে পারেনি সীমান্ত রক্ষী বাহিনী।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি এসব তথ্য জানায়। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার লাতু-কুমারশাইল সীমান্তবর্তী এলাকায় গুলাগুলি এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি জানায়, গোপন খবরে ৫২ বিজিবি (বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন) জানতে পারে, ভারতীয় একটি চোরাকারবারি চক্র কুমারশাইল সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র সরবরাহের উদ্দেশ্যে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরে ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহলদল রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কুমারশাইল এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়। পরে চোরাকারবারিরা সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রবেশ করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের থামার নির্দেশ দেন। এ সময় চোরাকারবারিরা বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে তারা গুলি চালায়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। একপর্যায়ে চোরাকারবারি দলের অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেলেও বলাই দাস নামে একজনকে আহত অবস্থায় আটক করতে সক্ষম হয় বিজিবি। পরে তার কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, .২২ বোরের দুই রাউন্ড গুলি ও ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির ধারণা আটক বলাই দাস সীমান্তকেন্দ্রিক একটি চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত। উদ্ধার করা অস্ত্র ও মাদক বাংলাদেশে সরবরাহের উদ্দেশ্যে ভারত থেকে আনা হয়েছিল। এছাড়া পলাতক চোরাকারবারিদের শনাক্ত ও আটকের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এবিষয়ে ৫২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান সুজন বলেন, সীমান্তে মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।