প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় পাঁচ মাস আগে। চূড়ান্ত ইমপ্যাক্ট রিপোর্টও হস্তান্তরিত। অথচ সরকারি দপ্তর ও গাড়ি ছাড়ছেন না ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের (এলডিডিপি) সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম। সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করে অধিদপ্তরে গাড়ি জমা না দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, সরকারি হাসপাতালে আসা খামারি ও সেবাগ্রহীতাদের কৌশলে নিজের চেম্বারে নিয়ে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম নিয়ম বহির্ভূতভাবে তার পূর্বনির্ধারিত কক্ষেই অবস্থান করছেন এবং বহাল তবিয়তে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলছেন। দরজার বাইরে ঝুলছে তার নাম ও পদবি সংবলিত নেমপ্লেট এবং অফিসের বাইরে পার্ক করা রয়েছে তাকে দেওয়া সরকারি মোটরসাইকেলটি।
প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি ‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প’ (এলডিডিপি)-এর কার্যক্রম শুরু হয়। সময় বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এবং গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে এর চূড়ান্ত রিপোর্ট হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে এই প্রকল্পে যোগ দেওয়া আব্দুস সালাম প্রকল্প সমাপ্তির পর ৬০ দিনের মধ্যে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরে জমা দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানেননি। দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে তিনি মোটরসাইকেলটি নিজের দখলে রেখে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প শেষ হওয়া সত্ত্বেও আব্দুস সালাম নিয়মিত সরকারি অফিসে আসেন বিশেষ এক উদ্দেশ্যে। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মূল ফটকের সামনেই ‘আলফাডাঙ্গা ভেট কেয়ার প্লাস’ নামে একটি ব্যক্তিগত চেম্বার খুলেছেন তিনি। সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে আসা খামারি ও সেবাগ্রহীতাদের নানা কৌশলে ভুলিয়ে নিজের ওই ব্যক্তিগত চেম্বারে নিয়ে যান এবং চিকিৎসা সেবার নামে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন।
অনিয়মের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আব্দুস সালামের কক্ষে যাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রভাষ চন্দ্র সেন বলেন, 'প্রকল্প শেষ হলেও ডেইরি সমবায় সমিতির রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কিছু কাজ বাকি থাকায় তিনি মাঝেমধ্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহার করেন এবং অফিসে আসেন।'
তবে বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ফরিদপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আসজাদ। তিনি স্পষ্ট জানান, 'প্রকল্প শেষ হলে সরকারি যানবাহন জমা দেওয়া সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক। তিনি কেন এখনও যানবাহন জমা দেননি, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
সৌদিতে নিহত ৭ প্রবাসীর জানাজা নওগাঁয় অনুষ্ঠিত