দ্য হেগের ইন্দাস পানি চুক্তির রায় প্রত্যাখ্যান ভারতের

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

ইন্দাস পানি চুক্তি নিয়ে হেগভিত্তিক পার্মানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশনের দেওয়া রায় প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লির দাবি, বিশ্বব্যাংকের উদ্যোগে গঠিত এই সালিশি আদালত ‘অবৈধভাবে গঠিত’ এবং ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের বিষয়ে রায় দেওয়ার কোনো এখতিয়ার তার নেই। খবর ইন্ডিয়া টুডে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) এক বিবৃতিতে জানায়, ইন্দাস পানি চুক্তি স্থগিত রাখার ভারতের সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে সালিশি আদালতের দেওয়া রায়ও প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি।

ভারত বলেছে, ‘কোর্ট অব আরবিট্রেশন’ নামে পরিচিত এই সংস্থাটিকে তারা কখনো আইনগতভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। এর কার্যক্রম ও আগের রায়গুলোকেও ভারত ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

ভারতের ভাষ্য, বিশ্বব্যাংক ইন্দাস পানি চুক্তির শর্ত ‘স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করে’ এই আদালত গঠন করেছে। তাই আদালতের দেওয়া সাম্প্রতিক রায়কে তারা গ্রহণ করছে না।

এমইএ বলেছে, এই তথাকথিত সালিশি আদালতের ভারতের ‘সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর কোনো এখতিয়ারই নেই’। আদালতের বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কোনো সিদ্ধান্তই ভারতে চলমান প্রকল্পগুলোর বিষয়ে নয়াদিল্লির পদক্ষেপকে প্রভাবিত করতে পারবে না বলেও জানিয়েছে ভারত।

চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল

ভারত আরও জানিয়েছে, ইন্দাস পানি চুক্তি ‘স্থগিত’ রাখার সিদ্ধান্ত এখনো কার্যকর রয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে চুক্তিটি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় নয়াদিল্লি।

এর পর থেকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, পানি তাদের জন্য ‘রেড লাইন’। চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকে ইসলামাবাদ ‘যুদ্ধের কর্মকাণ্ড’ হিসেবেও অভিহিত করেছে।

সাম্প্রতিক রায়ের আগে একই সালিশি আদালতের দেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তও প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। চলতি বছরের ১৬ মে ইন্দাস পানি চুক্তির আওতায় জলাধারে সর্বোচ্চ পানি ধারণসংক্রান্ত একটি রায় প্রত্যাখ্যান করে নয়াদিল্লি।

তখন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, ওই আদালত ‘অবৈধভাবে গঠিত’ এবং এর দেওয়া কোনো কার্যক্রম, রায় বা সিদ্ধান্তই ভারতের কাছে বৈধ নয়।

ইন্দাস পানি চুক্তি

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ইন্দাস পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের করাচিতে। চুক্তি সম্পাদনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল বিশ্বব্যাংক।

চুক্তির আওতায় ইন্দাস নদী অববাহিকার পানিসম্পদ দুই দেশের মধ্যে ভাগ করা হয়। পূর্বাঞ্চলের রাভি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর পানি ব্যবহারের অধিকার মূলত ভারতের জন্য নির্ধারিত। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের ইন্দাস, ঝিলম ও চেনাব নদীর পানি প্রধানত পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ করা হয়। তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্তে এসব নদীর পানিতে ভারতের সীমিত ব্যবহারের অধিকার রয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোতে ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও পানি ব্যবহারের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। এসব বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া নিয়েও একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান চুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাকে ক্রমবর্ধমানভাবে অপব্যবহার করেছে। অন্যদিকে, ইন্দাস পানি চুক্তির আওতায় গঠিত সালিশি প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েই এখন সরাসরি প্রশ্ন তুলছে নয়াদিল্লি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত