বরেণ্য কথাসাহিত্যিক মঞ্জু সরকারের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের একটি অডিটোরিয়ামে গ্রন্থোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অনুপ্রাণন প্রকাশনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাধারণ অডিটোরিয়ামের ৫ম তলার ৪০১ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
মঞ্জু সরকারের জন্মদিন উপলক্ষে অনুপ্রাণন প্রকাশন তাঁর নতুন উপন্যাস ‘নিয়ন্ত্রক’ প্রকাশ করেছে। চলতি বছরের বইমেলায় অনুপ্রাণন প্রকাশ করেছে তাঁর গল্পগ্রন্থ ‘শখের বাগানে সাপ’। অনুষ্ঠানে বই দুটি পাঠোন্মোচন করা হয়। এছাড়া অনুপ্রাণন থেকে প্রকাশিত মঞ্জু সরকারের অন্যান্য বই প্রদর্শনী ও বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। পাঠক-ক্রেতারা আগ্রহের সঙ্গে মঞ্জু সরকারের বই সংগ্রহ করেন।
‘নিয়ন্ত্রক’ ও ‘শখের বাগানে সাপ’ বই দুটি নিয়ে মূল্যায়নধর্মী আলোচনা করেন লেখক-গবেষক ও প্রকাশক মফিদুল হক, শিক্ষাবিদ ও লেখক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস, প্রাবন্ধিক চৌধুরী মুফাদ আহমদ, কথাসাহিত্যিক নাসিমা আনিস ও জাকির তালুকদার এবং নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম।
আলোচকরা মঞ্জু সরকারের কথাসাহিত্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, লেখক হিসেবে মঞ্জু সরকার এখনও অবহেলিত। তাঁর পাঠকসংখ্যাও যথোপযুক্ত নয়। যতটুকু সম্মান ও স্বীকৃতি তাঁর পাওয়ার কথা ছিল, তা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হয়নি বললেই চলে। সংস্কৃতি অঙ্গনের এই বন্ধ্যত্ব ও প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেন বক্তারা।
মঞ্জু সরকারকে নিয়ে স্মৃতিচারণ ও মূল্যায়নধর্মী আলোচনা করেন অনুপ্রাণন প্রকাশনের প্রকাশক-সম্পাদক আবু মোহাম্মদ ইউসুফ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কথাসাহিত্যে মঞ্জু সরকার গুরুত্বপূর্ণ একজন লেখক। লেখক হিসেবে তাঁর অবদান অপরিসীম। মঞ্জু সরকারের বই প্রকাশ করতে পেরে অনুপ্রাণন প্রকাশন আনন্দিত ও গর্বিত।
মঞ্জু সরকারের কর্মবহুল জীবনের বিভিন্ন ধাপে আলোকপাত করে সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন কবি সদ্য সমুজ্জ্বল।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে কথাসাহিত্যিক মঞ্জু সরকার বলেন, ‘বলতে গেলে লেখক হওয়ার জন্য এক কাপড়ে এই ঢাকা শহরে চলে এসেছি। তারপর কত উত্থান-পতন, ঝড়-ঝাপটার মুখোমুখি হয়েছি, তার ইয়ত্তা নেই। আমার লেখক হওয়ার সেই স্বপ্নের পথযাত্রা এখনো চলমান। দরকারি আরও কিছু লেখা লিখে যেতে চাই।’
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন কথাসাহিত্যিক মনি হায়দার। ড. অনুপম কুমার পালের ব্যবস্থাপনায় আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশন করেন কিরণ সংস্কৃতি সদনের একদল খুদে শিল্পী।
বিশেষ অতিথিদের শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে ফুলের তোড়া, গাছ, মগ ও উত্তরীয় দিয়ে সম্মান জানানো হয়। কথাসাহিত্যিক মঞ্জু সরকারকে তাঁর ফ্রেমবন্দি পোর্ট্রেট, সম্মানী (চেক) ও উত্তরীয় প্রদান করে শুভেচ্ছা ও সম্মান জানান অনুপ্রাণন প্রকাশনের সম্পাদক-প্রকাশক আবু মোহাম্মদ ইউসুফ।
প্রসঙ্গত, ছোটগল্প, উপন্যাস ও শিশু-কিশোর সাহিত্য মিলিয়ে অর্ধশতাধিক গ্রন্থের রচয়িতা মঞ্জু সরকার ১৯৯৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া ফিলিপস, আলাওল, ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল ও অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি পুরস্কারসহ বেশ কিছু সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।
মঞ্জু সরকারের জন্ম ১ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে রংপুরে। তাঁর কর্মস্থল ছিল জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র। স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি দুটি জাতীয় দৈনিকে দশ বছর সাংবাদিকতা করেন। বর্তমানে শুধু লেখালেখি করেই তাঁর দিন কাটছে।