সিন্ধু পানিচুক্তি পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে এবং ভারতকে চুক্তির আওতায় তার দায়বদ্ধতা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত। একই সঙ্গে ভারত কর্র্তৃক চুক্তিটিকে ‘স্থগিত’ রাখার সিদ্ধান্তকে চুক্তিটি স্থগিতের পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করে আদালত জানায়, কোনো একপক্ষের একতরফাভাবে এই চুক্তি স্থগিত বা বাতিল করার সুযোগ নেই। এ ছাড়া জম্মু ও কাশ্মীরের চেনাব নদীতে নির্মাণাধীন রাতলে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নকশার কিছু নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে সীমিত রাখার জন্যও ভারতকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত সোমবার স্থায়ী সালিশি আদালত এসব আদেশ দিয়েছে।
১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে তিনটি যুদ্ধ ও অন্যান্য বেশ কয়েকটি সংঘাত সত্ত্বেও উভয়পক্ষ চুক্তিটি মেনে চলে আসছিল। কিন্তু গত বছর প্রথমবারের মতো ভারত সিন্ধু পানিচুক্তির আওতাভুক্ত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কিছু পদক্ষেপ নিতে শুরু করে।
পাকিস্তানের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ আগস্ট আদালত দুটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়। স্থায়ী সালিশি আদালত বলেছে, সিন্ধু পানিচুক্তি বাতিল বা স্থগিত করার কোনো যৌক্তিক কারণ ভারতের ছিল না। কোনো নতুন চুক্তির মাধ্যমে সংশোধন বা বাতিল না করা পর্যন্ত এটি পুরোপুরি কার্যকর থাকবে। সার্বভৌমত্ব, সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা সশস্ত্র সংঘাতের মতো কোনো যুক্তিতেই চুক্তি স্থগিত রাখা বৈধ নয়। পাশাপাশি চেনাব নদীর ওপর নির্মাণাধীন রাতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কিছু নকশা চুক্তির খেলাপ বলে অভিযোগ করে পাকিস্তান। এই আপত্তির বিষয়ে আদালত নির্দেশ দেয়, রাতলে বাঁধের দেয়াল ও পানি প্রবেশের কাঠামোর নির্দিষ্ট উচ্চতার ওপর যেন ভারত কনক্রিট ঢালাইয়ের কাজ না করে এবং নির্মাণের সময়সূচির কোনো পরিবর্তন হলে তা রিপোর্ট করে।
তবে ২০২৩ সালে গঠিত এই আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতকে শুরু থেকেই স্বীকৃতি দেয় না ভারত। দেশটি কখনোই আদালতের কোনো শুনানিতে অংশ নেয়নি এবং আদালতের এই রায়কে ‘অবৈধ ও বাতিল’ বলে বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারত শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, এই সালিশি আদালত অনিয়মতান্ত্রিকভাবে গঠিত হয়েছে। ভারত বিশ্বব্যাংক কর্র্তৃক নিযুক্ত নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে ছিল। তবে চুক্তি স্থগিতের পর সেই প্রক্রিয়াও থেমে যায়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তথাকথিত সালিশি আদালতের ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের বিষয়ে কথা বলার কোনো এখতিয়ার নেই। ভারত যে প্রকল্পগুলো গ্রহণ করেছে সেগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে বর্তমানে ও ভবিষ্যতে এই রায়ের কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে সালিশি আদালত বলেছে, বিশ্বব্যাংকের নিয়োগ করা একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে বিচার করবেন হিমালায় অঞ্চলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না।