নতুন সামরিক জোটের যাত্রা শুরু

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৬ এএম

সৌদি আরবের মক্কায় একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে নতুন এক আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা বলয় গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ৭ আগস্ট ৩ মুসলিম প্রধান দেশের এই চুক্তি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরমাণু ক্ষমতাসম্পন্ন পাকিস্তান, খনিজসমৃদ্ধ সৌদি আরব ও সামরিক শক্তিধর তুরস্ক তাদের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির আনুষ্ঠানিক নাম দিয়েছে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোট’। গত সোমবার ইস্তান্বুলে তিন দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর এ নাম ঘোষণা করা হয়। এই চুক্তির আওতায় দেশগুলো তাদের যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও নিজ নিজ সশস্ত্র বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারে কাজ করবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে জোটটির সদর দপ্তর স্থাপনে সম্মত হয়েছে সদস্যদেশগুলো। প্রথম মহাসচিব পাকিস্তান থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। তিন দেশের দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তির লক্ষ্য যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করা। তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

বৈঠকের পর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, ‘এই জোট এই অঞ্চলে আরও বেশি স্থিতিশীলতা আনবে এবং অনিশ্চয়তা কমাতে ভূমিকা রাখবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই চুক্তির মাধ্যমে আমাদের অঞ্চলে নতুন একটি নিরাপত্তা ও সহযোগিতা কাঠামো পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’ নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক দেশগুলোর এখন জরুরি ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জোটটি সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই গঠিত হয়েছে বলে উল্লেখ করে হাকান ফিদান জানান, ভবিষ্যতে এই জোটে অন্য দেশের যোগ দেওয়ার সুযোগ আছে।

তবে এই জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কীভাবে কাজ করবে এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষার ধারা ঠিক কোন পরিস্থিতিতে কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তুরস্কের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের ও চিফ অব জেনারেল স্টাফ সেলজুক বায়রাকতারুগলু। সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান ও চিফ অব জেনারেল স্টাফ ফাইয়াদ আল রুওয়াইলি।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও তুরস্কের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুসারে, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল সামরিক বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার সক্ষমতা, যৌথ সামরিক মহড়া, যৌথ উৎপাদন ও গবেষণাসহ প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে সমন্বয়। জোটটির পারস্পরিক প্রতিরক্ষার ধারাকে কেউ কেউ ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে অনেক স্বাধীন বিশ্লেষক এ তুলনার বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে ন্যাটোর মতো এই চুক্তির কোনো সমন্বিত কমান্ড, স্থায়ী বাহিনী বা যৌথ সামরিক কাঠামো নেই।

কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের গালফ স্টাডিজ সেন্টারের গবেষক সিনেম চেঙ্গিস আলজাজিরাকে বলেন, ‘অনুমোদনের জন্য চুক্তিটি তুরস্কের পার্লামেন্টে পাঠানোর আগে এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।’ তার মতে, ওই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চুক্তির পূর্ণ শর্তাবলি প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা কম। ইস্তান্বুলের ইবনে খালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ গোকহান এরেলি সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ইরান যুদ্ধ শুরুর অনেক আগে থেকেই ওই তিন দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় আছে। তার মতে, প্রকৃত পরীক্ষা হবে যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার পর।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত