ইরান মৃত ও ব্যর্থ রাষ্ট্র : ট্রাম্প

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৭ এএম

এক মাসের আপেক্ষিক বিরতির পর পশ্চিম এশিয়ায় ফের পাল্টাপাল্টি সংঘাতে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে হামলার জবাবে জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরান। দুই পক্ষের নতুন উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে কঠোর আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় ইরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ‘ব্যর্থ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। পাশাপাশি দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ‘মৃত’ বলে দাবি করেন ট্রাম্প।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। এটি সম্পূর্ণ মৃত! তাদের কোনো নৌবাহিনী নেই, কোনো বিমানবাহিনী নেই, দেশের কোনো মুদ্রা ব্যবস্থা নেই এবং তারা নিজেদের সেনা ও পুলিশকে বেতন পর্যন্ত দিতে পারছে না। দেশে মূল্যস্ফীতি ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে এবং তাদের নেতৃত্ব চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে।’ পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করে বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচার গণহত্যা চালিয়ে ইরানের বর্তমান সরকার টিকে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ‘বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন এবং ইরানি নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার হওয়া উচিত।’ যদিও বরাবরের মতোই ট্রাম্প এসব দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

উপসাগরীয় অঞ্চলের এই সংঘাত সপ্তম মাসে পদার্পণ করেছে এবং সহসাই অবসানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না হোয়াইট হাউজ থেকে সম্প্রতি সামরিক অভিযানের চেয়ে অর্থনৈতিক অবরোধ জোরদারের আভাস দেওয়া হলেও, নতুন হামলা-পাল্টা হামলা যুদ্ধবিরতির আলোচনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। মধ্য এশিয়ার দেশ কিরগিজস্তানে এক সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সমঝোতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার পথ খুঁজছি। যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ইরান কিংবা এ অঞ্চলের কারও স্বার্থ নয়।’ ইরানের প্রেসিডেন্টের ভাষ্যমতে, বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের উপায় হলো সংলাপ ও সহযোগিতা।

দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলছি, যুক্তরাষ্ট্র যদি সমঝোতা স্মারকের অধীনে নিজেদের প্রতিশ্রুতিতে ফিরে আসে তাহলে ইরানও অবিলম্বে পদক্ষেপ নেবে।’ চূড়ান্ত শান্তি আলোচনা শুরুর পথ তৈরির লক্ষ্যে ওই সমঝোতা হলেও পরে উভয়পক্ষ শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। গত সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও যুক্তরাষ্ট্রকে সমঝোতার প্রতিশ্রুতিতে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি হলে সবকিছু আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে মোদি বলেন, ‘আগামী দিনে আমরা আমাদের বাণিজ্যিক পণ্যের পরিধি বাড়াতে এবং তা বহুমুখী করতে চাই।’ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, ‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে যেকোনো ধরনের প্রচেষ্টাকে ভারত সমর্থন করে যাবে।’ ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে ভারতের বড় ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১৭.০৩ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ১.৬৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার দাম ব্যারেল প্রতি ৫৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৯১ দশমিক ০৫ ডলারে পৌঁছেছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৮৩ সেন্ট বা ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬ দশমিক ৫৯ ডলারে। এর আগের সেশনেও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই-এর দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা বিগত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত