বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগ সোনালী ব্যাংকের জিএমের বিরুদ্ধে

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোনালী ব্যাংক পিএলসির প্রধান কার্যালয়ে টাঙানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ব্যাংকটির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে।

গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাংকের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে এসব ব্যানার টাঙানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।

ব্যাংকসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কোনো রাজনৈতিক দলের সরাসরি অঙ্গসংগঠন না হলেও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন নিজ নিজ রাজনৈতিক দর্শন ধারণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করে।

ব্যাংক খাতে জিয়া পরিষদ, শ্রমিক দলের অন্তর্ভুক্ত শ্রমিক ইউনিয়ন (সিবিএ), জাতীয়তাবাদী ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জাতীয় ও রাজনৈতিক দিবসে কর্মসূচি পালন করে আসছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জিয়া পরিষদ, সিবিএ এবং জাতীয়তাবাদী ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সাফল্য কামনা করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে কয়েকটি ব্যানার টাঙানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সাধারণত কোনো সংগঠনের ব্যানার টাঙানোর পর তা কয়েক দিন, এমনকি এক সপ্তাহ পর্যন্ত রাখা হলেও এবার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই ব্যানারগুলো খুলে ফেলা হয়। ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল কুদ্দুসের নির্দেশে তার লোকজন ব্যানারগুলো ছিঁড়ে ফেলেছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা। এ ঘটনায় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করছেন, বিএনপি ও জিয়াউর রহমানের প্রতি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিদ্বেষ থেকেই জিএম আব্দুল কুদ্দুস এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের দাবি, আব্দুল কুদ্দুস অতীতে আওয়ামীপন্থি বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য  ছিলেন এবং সংগঠনটির বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার পক্ষে তার বিভিন্ন বক্তব্য রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সোনালী ব্যাংকের জিএম আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ব্যানার অপসারণের সিদ্ধান্ত তিনি এককভাবে নেননি। তিনি বলেন আমাদের এমডি স্যারের নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমি বর্তমানে নিরাপত্তা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে আছি। সোনালী ব্যাংকের জিয়া পরিষদ, সিবিএ ও ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সব ব্যানার একসঙ্গে খুলে ফেলা হয়েছে। ব্যাংকের পরিচ্ছন্নতা ও নির্মাণকাজের স্বার্থে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছে।

এ বিষয়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ব্যাংকসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের ব্যানার স্থাপন ও অপসারণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত থাকা প্রয়োজন। তা না হলে এ ধরনের ঘটনা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিভাজন ও উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত