৯২ বছরে বিদায় নিলেন নারীবাদী আন্দোলনের অগ্রদূত গ্লোরিয়া স্টাইনেম

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ, নারীবাদী কর্মী ও সাংবাদিক গ্লোরিয়া স্টেইনেম মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। খবর বিবিসির।  

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের নিজ বাড়িতে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে মারা যান বলে ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে জানিয়েছে তাঁর ফাউন্ডেশন। মৃত্যুর সময় তিনি প্রিয়জনদের অনেকের সঙ্গেই ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।

লেখক ও ম্যাগাজিন সম্পাদক হিসেবে পরিচিত স্টেইনেম পাঁচ দশকেরও বেশি আগে যৌন বৈষম্যের বিরুদ্ধে কাজ করা সংগঠন উইমেন’স অ্যাকশন অ্যালায়েন্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

নিউইয়র্কে সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরে তিনি 'মিস.' ম্যাগাজিনের সহপ্রতিষ্ঠাতা হন। এটি ছিল এমন সময়ের অন্যতম প্রথম প্রকাশনা, যখন নারীদের নিয়ে প্রকাশিত অধিকাংশ লেখা গৃহস্থালি ও সৌন্দর্যচর্চার মতো বিষয়কেন্দ্রিক ছিল। ম্যাগাজিনটি নারীদের অধিকার ও জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে নিয়ে আসে।

১৯৭০-এর দশকে নারীর প্রজনন অধিকারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সোচ্চার আন্দোলন করেন স্টেইনেম।

২২ বছর বয়সে তিনি লন্ডনে অবৈধভাবে গর্ভপাত করিয়েছিলেন। কয়েক বছর পর ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের 'রো বনাম ওয়েড' মামলার রায়কে স্বাগত জানান তিনি। ওই রায়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকার স্বীকৃত হয়েছিল। প্রায় পাঁচ দশক পর সেই ঐতিহাসিক রায় বাতিল হওয়ার ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেন তিনি। নারীদের সমান অধিকার ও সমান বেতনের দাবির পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড ও নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণের বিরুদ্ধেও তিনি আন্দোলন করেছেন।

১৯৩৪ সালের ২৫ মার্চ ওহাইওর টলেডোতে জন্মগ্রহণ করেন গ্লোরিয়া স্টেইনেম। 

১৯৫০-এর দশকের শেষ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করার পর গবেষণাবৃত্তি নিয়ে ভারতে যান তিনি। সেখানে প্রায় দুই বছর বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন। এর মধ্যে গ্রামীণ নারীদের সরকারি নীতির বিরুদ্ধে অহিংস প্রতিবাদ সংগঠিত করতেও সহায়তা করেন। এই অভিজ্ঞতা তৃণমূল পর্যায়ের আন্দোলনের প্রতি তাঁর আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়।

১৯৬০-এর দশকের শুরুতে নিউইয়র্কে ফিরে ফ্রিল্যান্স লেখক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন স্টেইনেম। পরে 'নিউইয়র্ক ম্যাগাজিন'-এর কলামিস্ট হিসেবে কাজ করেন। 

বিয়ে না করার সিদ্ধান্তের জন্যও একসময় আলোচিত ছিলেন স্টাইনেম। তবে ২০০০ সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া উদ্যোক্তা ও পরিবেশবাদী ডেভিড বেলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ডেভিড বেল ছিলেন অভিনেতা ক্রিশ্চিয়ান বেলের বাবা। বিয়ের মাত্র তিন বছর পর মস্তিষ্কের লিম্ফোমায় তাঁর মৃত্যু হয়।

২০১৩ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা স্টেইনেমকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা 'প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম' প্রদান করেন।
 
তাঁর ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, 'শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি সমতার জন্য কাজ করে গেছেন।'

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত