২০২৭ থেকে প্রাথমিকের ১ কোটি ১০ লাখ শিশু পুষ্টিকর খাবার পাবে: ববি হাজ্জাজ

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামী ২০২৭ সাল থেকে দেশের প্রায় ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ কোটি ১০ লাখ শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে দেশের ১৫০টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে তিন লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন এক বেলা খাবার দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনার খুলনার একটি হোটেলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচি বিষয়ে ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, পরীক্ষামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে শুরুতে খাবার সরবরাহ ও মান নিয়ে কিছু সমস্যা ছিল। খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে ১৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে কর্মশালা করে সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, কোনো বিদ্যালয়ে নিম্নমানের খাবার বা অপরিপক্ব কলা সরবরাহ করা হলে তা গ্রহণ না করে ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে।

পচা খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দরপত্র বা সরবরাহ আদেশ বাতিল করা হবে। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ২০২৭ সালে দেশব্যাপী কর্মসূচি চালুর বিষয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে সরকারি প্রাথমিকে শিক্ষার মান কমেছে। প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। তাদের আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শ্রেণিকক্ষে পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মামলা জটিলতায় আটকে থাকা প্রায় ৩৪ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগও পুনরায় শুরু হবে।

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষক বদলি বা অবৈধভাবে পদায়নের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রমাণ ছাড়া কাউকে হয়রানি করা হবে না। তবে কোনো শিক্ষকের পদায়ন অবৈধ প্রমাণিত হলে তা পর্যালোচনা করে বাতিল করা হবে এবং তাকে আগের কর্মস্থলে ফেরত পাঠানো হবে। নতুন শিক্ষক নীতিতে যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে বদলি ব্যবস্থা চালুর কথাও জানান তিনি।

খুলনায় নিম্নমানের বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই ভবন গুলো অনুমোদিত হয়েছিল। ভবিষ্যতে এমন ভুল যাতে না হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শশীভূষণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি একটি বড় কোম্পানি দখল করেছে এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি লিখিত তথ্য চেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের নজরে বিষয়টি আনার আশ্বাস দেন। একই উপজেলার জাতীয় পর্যায়ে একাধিকবার সেরা মোহাম্মদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ও শিক্ষক সংকটের বিষয়েও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নতুন ভবন নির্মাণের সুপারিশে বিদ্যালয়টির নাম অন্তর্ভুক্ত করতে বলেন।

প্রাথমিক শিক্ষকদের পৃথক বেতন স্কেল প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন শিক্ষক নীতি নিয়ে কাজ চলছে। এটি শুধু বিবেচনাধীন নয়, সক্রিয়ভাবে প্রক্রিয়াধীন। তিনি বলেন, নতুন নীতিতে দেশের কোনো প্রাথমিক শিক্ষক হতাশ হবেন না।

এ ছাড়া সংস্কৃতি ও ক্রীড়া বিষয় চালুর ক্ষেত্রে সংস্কৃতি ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষক-কোচদের কাজে লাগানো, আগ্রহী বর্তমান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষিত শিক্ষক সাময়িকভাবে নিয়োগের বিষয়েও কাজ চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত