বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে স্বজনদের সংঘর্ষের ঘটনায় ৪০ ঘন্টা পর তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন।
হাসপাতালে নিরাপত্তা জোরদার এবং হামলার ঘটনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৫ নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের পর বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন।
এদিন দুপুরের পর শজিমেক হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, বিএনপি ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। বৈঠকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ বলেন, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক হয়েছে। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির মধ্যে বহিরাগত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দলীয় শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালে আর্মড আনসার মোতায়েন এবং সার্বক্ষণিক পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসব আশ্বাসের ভিত্তিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা সাময়িকভাবে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন।
বৈঠক চলার সময় বগুড়া শহর ছাত্রদল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচ নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বৃহস্পতিবার দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বগুড়া শহর ছাত্রদলের সভাপতি এস এম রাঙ্গা ও সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান রিমন এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন- বগুড়া শহর ছাত্রদলের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. নাফিউল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনির হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. প্রান্ত ইসলাম, সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শিহাব।
এরআগে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শজিমেক হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে আব্দুল মালেক (৫৫) নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের সংঘর্ষ হয়। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, রোগীর স্বজনেরা বার্মিজ চাকু ও রড নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে অন্তত ২১ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হন। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রীও ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় বুধবার হাসপাতালে ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়। পুলিশ এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল পৌণে ১০টা থেকে বহির্বিভাগ চিকিৎসা সেবাও বন্ধ করে দেন ইন্টার্ণ চিকিৎসকরা। তাদের ধর্মঘটে এসময় সাধারণ শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে শজিমেক হাসপাতালের মিলনায়তনে জরুরি বৈঠক শুরু হয়। এতে বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ, বগুড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক এ.কে.এম. আহসানুল তৈয়ব জাকির, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. প্রফেসর ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বর্তমান অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াদুদুল হক তরফদার, হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ, রাজশাহী ও বগুড়া জেলা বিএনপির নেতারা, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চিকিৎসকদের প্রতিনিধি ও ছাত্রদলের বৈঠকে হাসপাতালের নিরাপত্তা, হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়। পরে হামলার ঘটনায় দলীয় শাস্তি ও হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস পাওয়ার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা ধর্মঘট সাময়িকভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কাজে যোগ দিলে শজিমেক হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা পুরোদমে শুরুহয় পুনরায়।
বগুড়ায় শজিমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘট