দেশীয় এলএসডি ভ্যাকসিনে সুরক্ষিত হবে গবাদিপশু, কমবে খামারিদের ক্ষতি: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম

দেশে উদ্ভাবিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ভ্যাকসিন বাজারজাত করা সম্ভব হলে গবাদিপশুর সুরক্ষার পাশাপাশি খামারিদের আর্থিক ক্ষতি ও টিকাদান ব্যয় কমবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরু হলে টিকার সহজলভ্যতা বাড়বে এবং দেশের প্রাণিসম্পদ খাত আরও টেকসই হবে।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার রাইচু ঈদগাঁহ মাঠ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) আয়োজিত এলএসডি ও গোটপক্স ভ্যাকসিনের টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, লাম্পি স্কিন ডিজিজ গবাদিপশুর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে খামারিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। দেশে প্রতিবছর প্রায় আড়াই কোটি ডোজ এলএসডি ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয়। এতদিন এই বিপুল চাহিদা পূরণে বিদেশ থেকে আমদানি করা ভ্যাকসিনের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। এখন দেশের বিজ্ঞানীরা নিজস্ব প্রযুক্তিতে এলএসডি ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এটি দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

তিনি বলেন, গবাদিপশুকে সুস্থ ও রোগমুক্ত রাখতে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি। এলএসডির বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রতিটি গবাদিপশুকে টিকা দিতে হবে। একটি খামারে কোনো পশু আক্রান্ত হলে রোগটি দ্রুত অন্য পশুর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে রোগ দেখা দেওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

গবাদিপশুর খাদ্য ব্যয় কমাতে উন্নতমানের ঘাস উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, বিএলআরআই উদ্ভাবিত নতুন জাতের ঘাসে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে। এ ঘাস চাষের মাধ্যমে খামারিরা কম খরচে পুষ্টিকর পশুখাদ্য উৎপাদন করতে পারবেন। এতে দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং গবাদিপশু পালনের ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে।

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী এই জাতের ছাগলের উৎপাদন বাড়াতে নতুন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় ইউনিয়নভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি, প্রশিক্ষণ প্রদান, উন্নত জাতের ছাগল সরবরাহ এবং বিপণনে সহায়তা দেওয়া হবে। এ কর্মসূচিতে নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বাংলাদেশের অন্যতম মূল্যবান প্রাণিসম্পদ সম্পদ। এ ছাগলের মাংস ও চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে। পরিকল্পিত সম্প্রসারণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ খাতকে আরও সমৃদ্ধ করা গেলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান।

অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বিএলআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি তাজুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক প্রাণিসম্পদ খামারি উপস্থিত ছিলেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সার্বিক সহায়তায় আয়োজিত এ ক্যাম্পেইনে আদর্শ সদর উপজেলার গবাদিপশুর মধ্যে ২ হাজার ডোজ এলএসডি ভ্যাকসিন এবং ১০০ ডোজ গোটপক্স ভ্যাকসিন প্রয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত