চাঁদপুরে ৮ হাজার একরজুড়ে এগ্রোভোল্টাইক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্যোগ

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম

চাঁদপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষিকাজ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে ৭ থেকে ৮ হাজার একর জমিতে বড় আকারের এগ্রোভোল্টাইক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

একই সঙ্গে জেলার সরকারি খাস জমিতে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপনের সম্ভাব্য স্থানও যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় চাঁদপুরের মতলব উত্তরের বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাহেলা ওসমান সিকদার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং প্রাইম ব্যাংক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত চক্ষু শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান বিডা চেয়ারম্যান।

ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগের বিষয়ে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, চাঁদপুরে ইপিজেড করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারের কতটুকু খাস জমি রয়েছে এবং সেসব জমিতে ইপিজেড স্থাপনের সুযোগ আছে কি না, তা যাচাই করছে।

তিনি বলেন, নতুন করে জমি অধিগ্রহণ না করে সরকারি খাস জমিতে ইপিজেড স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে শুধু জমি থাকলেই হবে না। সেখানে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সুবিধা, সড়ক যোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়নের ব্যয় এবং উৎপাদিত পণ্য সহজে সড়ক বা নৌপথে চট্টগ্রামে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

চাঁদপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় এগ্রোভোল্টাইক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন বিডা চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এ পদ্ধতিতে একই জমিতে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষিকাজও চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। ফলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে।

চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চাঁদপুরে ইতোমধ্যে কয়েকটি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানের মধ্যে উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন করে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার একর বা তারও বেশি জমির ওপর হতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি চাঁদপুরের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি আশা করা হচ্ছে।

বিডা চেয়ারম্যান বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে এর সুফল শুধু চাঁদপুরবাসী নয়, দেশের অন্যান্য এলাকার মানুষও পাবেন।

তিনি বলেন, ‘কোনো কিছু বলা খুব সহজ, কিন্তু বাস্তবায়ন করা কঠিন। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে।’

চাঁদপুরের উন্নয়ন উদ্যোগগুলোর অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়মিত জানানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতি তিন মাস পরপর এসব কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

চক্ষু শিবির প্রসঙ্গে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, স্থানীয় মানুষের চিকিৎসাসেবায় এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সহযোগিতা করা হবে।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু ইউছুফ, সংগঠনের সদস্য অধ্যাপক ড. তারিফুজ্জামান সোহেল শিকদার, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক, এডিশনাল আইজিপি (টেলিকম) মো. মনিরুজ্জামান, ডিআইজি তাপতুন নাসরীন, প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম এ চৌধুরী, বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার কমোডর হারুন চৌধুরী, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি, মতলব উত্তর থানার ওসি কামরুল হাসান, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সদস্য অ্যাডভোকেট মফিজুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সদস্য খোকা শিকদার।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত