টাকা না পেলে ছেলেমেয়ের লাশ সড়কে পড়ে থাকবে

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৭ এএম

এবার চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেলে মাকসুদ চৌধুরী নামে এক ব্যবসায়ী ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রায়হান। মাকসুদ বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোজাফফর নগর এলাকার বাসিন্দা। নগর পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত শুরু করছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর স্ত্রী মাহফুজা রুনা গত বৃহস্পতিবার বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। বিষয়টি জানাজানি হয়েছে গতকাল শুক্রবার।

জিডিতে মাহফুজা বলেন, ‘গত ৩১ আগস্ট রায়হান পরিচয়ে আমার স্বামীর মোবাইলে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে কল করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদার টাকা না পেলে আমাদের ছেলে, মেয়ে ও নাতির লাশ সড়কে পড়ে থাকবে বলে হুমকিও দেওয়া হয়েছে।’ ভুক্তভোগী মাকসুদ চৌধুরী গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে রায়হান নামের সন্ত্রাসীর হুমকি পাওয়ার পর থেকে আমরা ভয়ে আছি। তাকে শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক। আমি এখন কোনো রাজনীতি করি না, ব্যবসা করি।’ ব্যবসায়ী মাকসুদ চৌধুরীকে হুমকি দিয়ে রায়হান বলে, ‘টাকা না দিলে মোজাফফরনগরে তোমার সঙ্গে আমার লোক থাকবে। কোথায় যাচ্ছ, কী করছ, সব দেখবে আমাদের লোকজন। তোমার ছেলেকে নিয়ে আসব, মেরে ফেলব। আমি রায়হান, যা বলি তা করি। কালকের মধ্যে মেরে ফেলব। তোকে কে বাঁচায় আমি দেখব। কোনো সুপারিশে কাজ হবে না। তোমরা সব ভাই পুত-নাতির লাশ নিয়ে কূল পাবে না। মেয়ে যেটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে... হবে অনে।’

এই প্রসঙ্গে বায়েজিদ বোস্তামী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তফা কামাল বলেন, চাঁদা চেয়ে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে জিডি করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। কারা হুমকি দিয়েছে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’ পুলিশের অপর একটি সূত্র জানায়, হুমকির শিকার ব্যবসায়ী মাকসুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মোজাফফরনগর এলাকায় সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়া, জমিজমা নিয়ে বিরোধে জড়ানোসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে ১১ আগস্ট নগরের হামজারবাগে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে একটি ভবনের ফটকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। গুলি করার আগে দুপুর ১২টার দিকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা পরিশোধের জন্য ১ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে ভবন মালিকের ছেলের কাছে অডিও বার্তা পাঠায় সন্ত্রাসীরা। এরপর রাতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।  গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে একই চক্রের বিরুদ্ধে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রাম নগর ও জেলার রাউজানে গুলি করে হত্যা, চাঁদাবাজি, চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর বাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবনে গুলি বর্ষণসহ নানা অপরাধ সংঘটনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিছু সন্ত্রাসী। বেশির ভাগ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। তাদের মধ্যে ছোট সাজ্জাদ, মোবারক হোসেন ইমন, মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে সাজ্জাদ বাহিনীর সদস্য রায়হান, বোরহান উদ্দিন পলাতক। সন্ত্রাসী রায়হানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে রয়েছে অন্তত আটটি মামলা। রায়হান নিয়মিত ফেসবুকে পোস্ট দিলেও পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছে না। ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাউজান উপজেলার উরকিরচর গ্রামের কেরানিহাট এলাকায় মোহাম্মদ করিম নামে যুবদলের এক কর্মীকে গুলি করে হত্যা করে অস্ত্রধারীরা। এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর নিজের ফেসবুক স্টোরিতে পিস্তল থেকে তিনটি ফাঁকা গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও আপলোড করে রায়হান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত