টেকসই বাঁধ ও সেতুর দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৯ পিএম

তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙন ও জোয়ারের পানিতে বসতভিটা, ফসলি জমি ও মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। নদীভাঙন থেকে রক্ষা পেতে বিজ্ঞানসম্মত ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ভোলার ভেলুমিয়া থেকে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবিতে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে পটুয়াখালীর বাউফল প্রান্তে তেঁতুলিয়া নদীর তীরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাউফলের ধুলিয়া ও বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।

‘ভোলা জেলার ভেলুমিয়া ও পটুয়াখালী জেলার ধুলিয়া সেতু নির্মাণ ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ আন্দোলন’ কমিটির আহ্বায়ক মোফাজ্জেল হক মফুর সভাপতিত্বে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় সুধী সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন।

সমাবেশে পটুয়াখালী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা সহিদুল আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তসলিম তালুকদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন। মুঠোফোনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোফাজ্জেল হক মফু বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষকে প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে হচ্ছে। তেঁতুলিয়া নদীর জোয়ারে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নদীর তীব্র ভাঙন। ইতিমধ্যে কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অনেকে হারিয়েছেন বসতভিটা, গবাদিপশু, পুকুরের মাছ ও ফসল। এতে কয়েক হাজার মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

তিনি বলেন, নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাস থেকে মানুষের বসতভিটা ও কৃষিজমি রক্ষায় তেঁতুলিয়া নদীর তীরে এখনই বিজ্ঞানসম্মত ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। বারবার ভাঙন ঠেকাতে অস্থায়ী ব্যবস্থা না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভোলার ভেলুমিয়া থেকে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। বর্তমানে নদী পারাপারের ওপর নির্ভরশীল এই বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে।

তাদের দাবি, প্রস্তাবিত সেতুটি বাস্তবায়িত হলে ভোলা ও পটুয়াখালীর পাশাপাশি বরিশাল, বরগুনা, পিরোজপুর, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হতে পারে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।

বক্তারা আরও বলেন, তেঁতুলিয়ার দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি শুধু একটি সেতু নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নদীভাঙন থেকে জনপদ রক্ষা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন—দুটি বিষয়ই একই সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। সেতুর সঙ্গে টেকসই নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা গেলে একদিকে মানুষের বসতভিটা ও কৃষিজমি রক্ষা পাবে, অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের দুই প্রান্তের মধ্যে তৈরি হবে সরাসরি যোগাযোগের নতুন পথ।

মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন থেকে দ্রুত তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে স্থায়ী নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং ভেলুমিয়া-ধুলিয়া সেতু নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত