লালদীঘির সমাবেশে ডা. শফিক

বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে না

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৫ এএম

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যা কিছু কথা দিয়েছেন, ওয়াদা করেছেন এখন তার সবকিছু লঙ্ঘন করছেন। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন,  ‘আপনারা উল্টাপাল্টা করবেন আর বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে সেটা হবে না। এখন পর্যন্ত আমাদের আঙুল সোজা, প্রয়োজনে এটা বাঁকা হবে।’

গতকাল শনিবার রাতে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, আমাদের এই আন্দোলন ঈদের পরের আন্দোলন নয়। এটা জনগণের প্রাণের দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন। এই চট্টগ্রাম আন্দোলন, সংগ্রাম, স্বাধীনতার সূতিকাগার। এই বীর চট্টলা থেকে আজ আন্দোলন শুরু হলো। আমরা কাউকে ক্ষমতা থেকে বিদায় দেওয়ার জন্য এ আন্দোলন শুরু করিনি। কিন্তু কেউ যদি বিদায় নেওয়ার মতো আমল করে থাকে আমাদের কিছু করার নেই। আর সরকার সেই পথেই হাঁটছে। আগের ফ্যাসিস্ট সরকার যে রাস্তা ধরে হেঁটেছে এই সরকারও একই রাস্তায় হাঁটছে।

তারা নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রতিটি স্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধি দিয়েই দেশ চালাবে। কিন্তু এখন জায়গায় জায়গায় যে প্রশাসক বসালেন তারা কি নির্বাচিত প্রতিনিধি?

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মানুষ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য একটা বাংলাদেশের রাজনীতির পরিবর্তনের জন্য সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে একই ব্যক্তিকে দুটি ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনের আগে আমরা এবং বর্তমান সরকারি দল উভয়ে বলেছি, আপনারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। যদি হ্যাঁ বিজয়ী হয় তাহলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। কিন্তু ছয় মাস পার হওয়ার পরও বিএনপি তাদের কথা রাখেনি। জাতির সঙ্গে তারা প্রতারণা করেছে। দেশের মানুষ আশা করেছিল এবার দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন আসবে। আর ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে না।

দেশের মানুষের নানা সংকটের কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশের মানুষ যে সুবিধা পেয়েছিল এখন তো সে সুবিধাও পাচ্ছে না। এখন গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই। আবার বিদ্যুৎ না থাকলেও ভুতুড়ে বিল আসছে। গ্যাস না থাকলেও বিল দিতে হচ্ছে। তেল নেই, জ্বালানি নেই চারদিকে হাহাকার। আর সমাজে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাস, রাহাজানি ও হানাহানি। সরকারি দলের লোকের এসব সন্ত্রাস, রাহাজানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, নিজেদের পরিচয় গোপন করে তারা ছিনতাই করছে। ধরা পড়ার পর পরিচয় মিলছে। যারা নিজেদের পরিচয় গোপন করে অপরাধ করে, তারাই সবচেয়ে বড় গুপ্ত।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, দলের ঢাকা মহানগরের (দক্ষিণ) আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাত উল্লাহ সিবগাত, এনসিপির মুখপাত্র সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া,  বাংলাদেশ  ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ আজাদ পার্টির (বিএপি) সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

লংমার্চের সমাপনী সমাবেশকে ঘিরে লালদীঘি মাঠ ও আশপাশের এলাকা বিকেল থেকেই লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতারা একে একে বক্তব্য রাখেন। রাত ৮টা ২০ মিনিটে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা লালদীঘির সমাবেশ মঞ্চে পৌঁছান ।

এর আগে সকালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামমুখী লংমার্চ শুরু হয়। পথে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, কুমিল্লার পদুয়া, ফেনীর মহিপাল, মিরেরসরাই ও সীতাকুন্ডে জনসভায় জোট নেতারা বক্তব্য রাখেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত