জ্বালানি সংকটে ভুক্তভোগীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৮ এএম

দেশে চলমান জ্বালানি সংকটে ভুক্তভোগীদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই মুহূর্তে জ্বালানি সংকট দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই সংকটকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে কোনো অরাজকতা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকেরই সীমার মধ্যে থাকা দরকার।’ গতকাল শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনার শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সব শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে বিএনপির ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, দিবসটি পালনের জন্য গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া পাঁচ দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে এই আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত কিছুদিন ধরে আমরা খেয়াল করছি, স্বৈরাচার আমলের কিংবা অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া যেসব সমস্যা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, সেগুলোর সমাধানের চেষ্টা চলছে। সমস্যা আছে তা অস্বীকার করছি না, কিন্তু এসব সমস্যাকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল-ব্যক্তি বিভ্রান্তি ও অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, সরকার পরিষ্কারভাবে বলতে চায় যে, জনগণ এই সরকারকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতা সর্বোচ্চ দিয়ে সমুন্নত রাখা হবে। তবে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইলে আইন অনুযায়ী তা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।’

প্রত্যেকে নিজ সীমার মধ্যে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বৈরাচারের আমলে একটি রাজনৈতিক দল গুপ্ত বেশ ধারণ করে স্বৈরাচারের ভেতরে লুকিয়ে ছিল, যা তাদের নিজেদের লোকজনই পরে স্বীকার করেছে।’ বর্তমানের এই বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের পেছনেও সেই গুপ্তদের স্বৈরাচারকে আবার সামনে নিয়ে আসার পাঁয়তারা থাকতে পারে। জনগণের সামনে এই গুপ্ত বাহিনীর রাজনীতি উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, ‘একাত্তর সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময় এই গুপ্ত বাহিনী একে অপরকে আড়াল ও আশ্রয় দিয়ে এসেছে।’

সরকার গঠনের পর ভঙ্গুর অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগব্যবস্থার মতো বহুবিধ সমস্যা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো জ্বালানি সংকট। অনেক মানুষ ও শিল্প-কলকারখানার মালিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কষ্টে আছেন। এ জন্য আমি দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি। শুধু অজুহাত না দেখিয়ে বিএনপি একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যাতে ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে কোনো সমস্যা তৈরি হলেও দেশের মানুষকে এই জ্বালানি সংকটে পড়তে না হয়।’ দেশের মানুষকে যুক্ত করে একটি মানবিক রাষ্ট্র ও এমন গণতন্ত্র গড়ে তুলতে চান যেখানে মানুষের কথা বলার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমানউল্লাহ আমান, ডা. ফরহাদ হালিম, ইসমাইল জবিহউল্লাহ, যুবদলের সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান এবং ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান ও এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত