মেয়াদ শেষের আগেই ভাঙা হলো শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫১ এএম

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড ভেঙে নতুন বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত বিশ^বিদ্যালয়ের ৫৬৮তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের মনোনীত সদস্যদের মেয়াদ দুবছর। এ বোর্ডের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিন্ডিকেট সভায় সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার মো. হাছান মিয়া। তিনি বলেন, নিয়োগ বোর্ড গঠনের জন্য আগের সিন্ডিকেটগুলো থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতাই এই সভায় সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক ক্যাটাগরিতে শিক্ষক নিয়োগে নির্বাচনী বোর্ড পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।

এদিকে সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড পুনর্গঠনের জন্য গত ১১ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৭তম সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত মোতাবেক চবি উপাচার্যকে অর্পিত ক্ষমতাবলে পুনর্গঠিত নির্বাচনী বোর্ড অনুমোদন করা হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩ অনুযায়ী, প্রতিটি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য একটি নির্বাচনী বোর্ড গঠন করা হবে। এক্ষেত্রে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য একটি নির্বাচনী বোর্ড এবং সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য আরেকটি নির্বাচনী বোর্ড থাকবে। তবে চবি প্রশাসন সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের নিয়োগ বোর্ড পুনর্গঠন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৭৩ এর প্রথম সংবিধির ৫নং অনুচ্ছেদের ২নং ধারায় বলা হয়েছে, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক এবং অন্য গবেষণা ও শিক্ষকতা পদে নিয়োগের সুপারিশ প্রদানের জন্য নির্বাচনী বোর্ড গঠন করা হবে। নির্বাচনী বোর্ডে সিন্ডিকেট কর্তৃক দুজন সদস্য মনোনীত হবেন। মনোনয়নের দিন থেকে দুবছর পর্যন্ত সদস্যদের মেয়াদ থাকবে। এ ছাড়া এতে সভাপতি থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি এতে সদস্য হিসেবে থাকবেন। আইন অনুযায়ী, সর্বমোট চার সদস্যের নির্বাচনী বোর্ডের মাধ্যমে সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে।

এর আগে, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫৮তম সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের প্রত্যেকটিতে সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড গঠন করা হয়। এতে দুবছরের জন্য দুজন করে বিশেষজ্ঞ সদস্যকে প্রত্যেকটি বিভাগে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ৪ জানুয়ারি থেকে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তথা ৫৯৮তম সিন্ডিকেট সভা পর্যন্ত গঠিত নির্বাচনী বোর্ডের মেয়াদ হয়েছে মোট ৬০৮ দিন। ফলে দুবছর পূর্ণ হতে আরও ১২২ দিন বাকি, অর্থাৎ ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের ৪ জানুয়ারি সেই দুবছর পূর্ণ হবে। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই নির্বাচনী বোর্ড ভেঙে দিয়েছে চবি প্রশাসন।

এ বিষয়ে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, চবির ৬০ বছরের ইতিহাসে এমন কিছু আগে হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী নিয়োগ বোর্ডের মেয়াদ এখনো প্রায় ৪ মাসের মতো আছে। পূর্বের প্রশাসনও মেয়াদ শেষের পর বোর্ড গঠন করেছিল।

তড়িঘড়ি করে সিন্ডিকেট সভার আয়োজন : বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী, সিন্ডিকেট সভা আয়োজনের ক্ষেত্রে সভার আলোচ্যসূচি প্রত্যেক সিন্ডিকেট সদস্যকে অন্তত সাতদিন আগে পাঠাতে হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভার আলোচ্যসূচি গত বৃহস্পতিবার রাতে জরুরিভিত্তিতে সিন্ডিকেট সদস্যদের পাঠিয়ে সভা আহ্বান করেছেন উপাচার্য।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত