হাটহাজারীর সেই ‘পিস্তল খোকন’ কারাগারে

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে এক ইউপি সদস্যকে জুতার মালা পরানোর ঘটনায় আলোচিত যুবলীগ নামধারী ক্যাডার নুরুল ইসলাম খোকন ওরফে ‘পিস্তল খোকনকে’ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বড়দিঘিরপাড় আহনের পাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আজ রবিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান রোববার বিকেলে বলেন, ‘নুরুল ইসলাম খোকন এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার একটি সন্ত্রাসী বাহিনী আছে। তার বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করে রোববার আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।’

নুরুল ইসলাম খোকন চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের রাজখানপাড়ার মো. ইলিয়াছের ছেলে।

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩০ মে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের রাজখানপাড়া মসজিদের সামনে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউছুপ হোসেন ওরফে বুলুর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে জুতার মালা পরানো হয়। চাঁদা না দেওয়ায় পিস্তল খোকন ও তার সহযোগীরা তাকে মারধরও করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ সময় খোকনের কয়েকজন সহযোগী বুলুকে জুতার মালা পরানো ও মারধরের ভিডিও ধারণ করেন। পরে খোকন ও তার কয়েকজন সহযোগী নিজেদের ফেসবুক আইডি থেকে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেন। একপর্যায়ে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বুলু খোকন ও তার কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় মামলা করেন। পরে ওই মামলায় খোকনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পিস্তল খোকনের অপরাধের বিষয়ে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারামারি, চাঁদা না পেয়ে গুলিবর্ষণ এবং রাজখানপাড়ার সাবেক যুবলীগ নেতা এমরানের মালিকানাধীন রাস্তায় মাটি ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিসহ বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। সবসময় কোমরে পিস্তল নিয়ে চলাফেরা করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান খোকন। সম্প্রতি স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতার প্রশ্রয়ে তিনি এলাকায় ফিরে আসেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। এলাকায় ফেরার পর তিনি পুনরায় বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শনিবার গ্রেপ্তারের পর তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে ওইসব বিএনপি নেতা পুলিশের কাছে তদবির করেছেন—এমন আলোচনা স্থানীয়ভাবে রয়েছে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত